নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্ক্রু ঢিলা মোদী-শাহের, তাতেই গড়বড়! ডেবরায় চিন্তত মুখ্যমন্ত্রী! আগামী কাল থেকে বাংলায় শুরু হবে হাই ভোল্টেজ ২১ এর ভোট। জোর কদমে হিসেব কষছেন সব দল, কোন ক্লেন্দ্রে লিড দেবেন কতটা। এক দল অনাস্থা প্রকাশ করছে অন্য দলের ওপরে। কটাক্ষ করছে সভা থেকে। আজই দাস পুরের সভা থেকে মমতা বলেছিলেন, বিহার-ইউপি’র পুলিশ বিজেপির, যেকোন প্রকার ঘোটালা ঘটাতে পারেন তাঁরা। ডেবরায় এবারে তৃণমূলের প্রার্থী হুমায়ুন কবীর, তাঁর প্রচারেই আজ মমতা সভা করেছেন সেখানে। আএ আগে দাসপুরে বলে এসেছেন সুরক্ষার স্বার্থে টানা ৫ দিন নন্দীগ্রাম পাহারা দেবেন তিনি নিজে। ১লা এপ্রিল ভোট নন্দিগ্রামে। এবারের সবথেকে বেশি গুরুত্বপুর্ন আসন সেটি।


গোটা রাজ্য জুড়ে চলছে ভোট আবহ। আর ২৪ ঘন্টার মাথাতেই শুরু হতে চলেছে সেই আবহের প্রথম দফার কর্মযজ্ঞ। কাল থেকেই শুরু হবে বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন। পুর্ব, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া মিলিয়ে মোট ৩০ টি আসনের নির্বাচন হবে কাল। গতকাল এই সব আসন কভার করে একেবারে গুরুবারের চূড়ান্ত প্রচার সেরেছেন সব দলের হাই ভোল্টেজ নেতা নেত্রীরা। আহত পা আর একাধিক বিতর্ক সঙ্গে নিয়েই হুইল চেয়ারে বসে সভা করছেন রাজ্য জুড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অদম্য জেদের কাছে নত হয়ে দলের নেতা কর্মীরা বার্তা দিচ্ছেন কেনো এই নির্বাচনে তৃনমূলের বিকল্প তৃনমূলই। কেন দরকার বাংলার নিজের মেয়েকেই।
আর আজ সভা করছেন মমতা মেদিনীপুরের একাধিক বিধানসভায়। আজকের প্রথম সভা করেন দাসপুর থেকে। সেখান থেকে ফের ভিনরাজ্যের পুলিশ অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ভোটগ্রহণের দিন সকলে সতর্ক থাকবেন। মনে রাখবেন, ওই দিন শুধু আমাদের পুলিশ থাকবে তেমন নয়। অন্য রাজ্যের পুলিশও থাকবে। তাই কেউ যদি আপনাদের বলে তারা মেশিন পাহারা দেবে, একদম তা শুনে চলে যাবেন না। ওরা বিরিয়ানি দিলেও খাবেন না। ওরা সব পারে, খাবারে বিষ বা মাদক মিশিয়ে দেবে। তারপর মেশিন নিয়ে পালাবে। ভালো ভাবে কাজ করার উপায় ও বাতলে দিয়েছেন তিনি, ইভিএম চেক থেকে ভোটের দিন সার্বিক নজর, বুথ কর্মীদের বারেবারে সতর্ক থাকার কথা বলছেন তিনি। মক পোলিং ৩০ বার করতে বলেছেন। দু’বার ইভিএম সুইচ অফ সুইচ অন করতে বলেছেন। ভিভিপ্যাট মেশিন ভাল করে পরীক্ষা করতে বলেছেন।
।সভা মঞ্চ থেকে নেতা নেত্রীরা এখন প্রতিনিয়ত একে অপরকে কটাক্ষ করছেন। জনগনের সামনে তুলে ধরছেন নিজেদের কাজের খতিয়ান। কেউ কেউ ব্যক্তিগত বিতর্কেও জড়িয়ে পড়ছেন। আজকের দাসপুরের সভায় ফের বিজেপিকে এখাত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায় “শয়তানের দল” বিজেপি। তিনি আরও বলেন, “ওই শয়তানের দল নারী বিদ্বেষী, কৃষক বিদ্বেষী, উন্নয়ন বিদ্বেষী।” এর আগেও তৃনমূলের তরফ থেকে নন্দীগ্রামের বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে কমিশনের কাছে পভিযোগ করা হয়েছিল, মোট ৪টি বাড়ি তে বাইরের লোক মজুত রেখেছে শুভেন্দু অধিকারী। আজকে সভাতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল রাতে কাঁথি বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তরপ্রদেশের ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মীরজাফররা ওদের এনেছে। কিন্তু এসব করে কোনও লাভ হবে না। নন্দীগ্রাম, কাঁথি কোথাও কোনও অশান্তি করতে দেব না।”


স্ক্রু ঢিলা মোদী-শাহের, তাতেই গড়বড়! ডেবরায় চিন্তত মুখ্যমন্ত্রী! বিজেপি সরকারের প্রতি কটাক্ষ করতে গিয়ে রাজনীতির গণ্ডী পেরিয়ে সোজা ঢুকে পড়েন ব্যাক্তিগত জীবনে। কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতাদের বাংলা উচ্চারণ থেকে মোদীর দাড়ি নিয়েও। এও বলেন, মোদীর জামানায় ইন্ড্রাস্টির গ্রোথ কমছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাড়ির গ্রোথ। সঙ্গে তাঁর তিনি মোদীর পোশাক পরিচ্ছেদ নিয়েও পরিহাস করেন, বলেন কখনো গান্ধী রবীন্দ্রনাথ সাজার ইচ্ছে হয় মোদীর। প্রসঙ্গ তুলে আনেন মোদীর নিজের নামের স্টেডিয়াম বানানো নিয়ে, বলেন কোন একদিন দেখা যাবে তিনি গোটা দেশই নিজের নামে করে নিয়েছেন। আর এসব অরাজনৈতিকতা থেকে মুক্তির বিকল্প হিসেবে মা বোনেদের সম্বধন করে তিনি তুলে ধরেছেন মা মাটি মানুষের নাম।







