নজরবন্দি ব্যুরো: শিয়রে নির্বাচন। এদিকে নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে দলবদলের হিড়িক ততই বাড়ছে। শুক্রবারই শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁর যোগদানের পর চর্চা আরও তুঙ্গে। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র । তিনি জানান, যে কেউ চলে যেতে চাইলে তাঁদের স্বাগত জানাই। আমি মনে করি না সৌমেন্দুর অপসারণের জন্য আমাদের দলে কোনও প্রতিচ্ছবি থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা দলের প্রতি অনেক অনেক বেশি অনুগত হয়ে উঠছেন।
আরও পড়ুন: বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন পাবেন প্রত্যেক দেশবাসী, নববর্ষে উপহার কেন্দ্রের।
উল্লেখ্য, শুক্রবারই কাঁথি পুরসভার ১৫ জন বিদায়ী পুর প্রশাসক নিয়ে বিজেপিতে যোগদান শুভেন্দুর অধিকারির ভাই সৌমেন্দু। ২১শের বিধানসভা নির্বাচনে আগেই দাদা (শুভেন্দু)-র হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিলেন সৌমেন্দু। শুক্রবার কাঁথির ডরমেটরি ময়দানে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ১৫ জন বিদায়ী কাউন্সিলরও নাম লেখালেন বিজেপিতে। রবিবার ডায়মন্ডহারবারের সভা থেকে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর বক্তব্য ছিল, বাড়িতে পদ্ম ফোটাতে পারোনি। এরপর শুভেন্দু বলেন, ভাইপো বলছে, লজ্জা করে না বাড়িতে ফোটাতে পারনি। আমার বাড়ির লোকেরা পদ্ম ফোটাবে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে ঢুকেও পদ্ম ফোটাব’। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল, তবে অভিষেকের কটাক্ষের জবাবে শুভেন্দুর মন্তব্যের পরেই কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ভাই সৌম্যেন্দুকে। তাঁর জায়গায় আনা হয় অধিকারীদের বিরোধী পক্ষ অখিল গিরি ঘনিষ্ঠ সিদ্ধার্থ মাইতিকে।
অধিকারী পরিবারের আর এক ভাই দিব্যন্দু অধিকারী তমলুকের তৃণমূল সাংসদ। এসব রাজনৈতিক তরজা নিয়ে তাঁকেও কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। এদিকে শুভেন্দু ও তাঁর ভাইয়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে অধিকারী পরিবারের বাকি সদস্যরাও কি শুভেন্দুর পথেই হাঁটবেন? যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি, শুভেন্দুর হাত ধরে তৃণমূলের বহু নেতা মন্ত্রী তথা তাঁর বহু অনুগামীও খুব শীঘ্রই যোগ দেবেন দলে।
সৌমেন্দুর অপসারণ আমাদের দলে কোনও প্রভাব পরবে না, একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারী নিজের দল ভারী করতে ব্যস্ত তখন নিজেরই দলে যে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে সও সম্বন্ধে হয়তো কর্ণপাত করছেন না তিনি। বহু বিক্ষুব্ধ কর্মীদের আশঙ্কা, শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর অনুগামীদের ফলে পুরনো বিজেপি কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। এই নিয়ে জোর সমস্যার মুখে পড়েছেন তিনি। কর্মীদের একাংশ জানান, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বা দিতে চাইছেন।



