নিউ টাউনের একটি রেস্তোরাঁয় মারপিট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন চণ্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। এই ঘটনায় ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। যদিও তাতে বিতর্কের অবসান হয়নি। এই ঘটনায় সোহমের সমালোচনা করেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। আর এবার সেই দেবকেই নিশানায় নিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।
আরও পড়ুন: তীব্র গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী, আর মাত্র দু’দিন পর ঝেঁপে বৃষ্টি রাজ্যজুড়ে


সোহম ও দেব ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। দু’জনের পেশা এক। রাজনৈতিক আদর্শও এক। দেব ও সোহম বন্ধুও বটে। তবু, মারপিটকাণ্ডে সোহমের সমালোচনা করে দেব বলেন, “সোহম আমার বন্ধু। আমার ওর সঙ্গে কথাও হয়েছে। কিন্তু, একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে সে ঠিক কাজ করেনি। শুধু জনপ্রতিনিধি হিসাবে কেন, একজন মানুষ হয়ে আর এক জন মানুষকে মারধর করা উচিৎ নয়। সোহমের সংযত থাকা উচিৎ ছিল।”

এদিকে পাল্টা মদনের বক্তব্য, “সোহমকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ও খুব শান্ত একজন মানুষ। সোহম যে কাউকে চড় মারতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না। আর এক্ষেত্রে দেব যেটা করেছে সেটা আমি শুনেছি। এটাকে দাদাগিরি বলে। রাজনীতিতে নিজেকে দাদা ভাবছে!”
প্রসঙ্গত, নিউ টাউনের একটি রেস্তোরাঁয় মারপিট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। এই ঘটনায় ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। যদিও তাতে বিতর্কের অবসান হয়নি। গত শনিবার নিউ টাউনের একটি রেস্তোরাঁয় শুটিংয়ের কাজে যান সোহম চক্রবর্তী। ঘটনার সূত্রপাত গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সেখানের কর্মীরা তাঁর ও দলের সেকেণ্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে গালিগালাজ করেন। তাই মাথা গরম করে সোহম সেই রেস্তোরাঁর মালিককে মুখে ঘুষি মারেন এবং মাটিতে ফেলে লাথি কষান।


দেবের দাদাগিরি! সোহমকাণ্ডে ঘাটালের সাংসদকে নিশানা মদনের

কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনে রেস্তোরাঁ। সেখানে সত্যিই সেই দৃশ্য (যদিও এই ভিডিও-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) দেখা যায়। ঘটনার দিন আবার নিজের ‘জোর’ দেখিয়ে থানায় রেস্তোরাঁর কর্মীদের দিয়েই মুচলেকা লিখিয়ে নেন সোহম যে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই। পাল্টা অভিনেতা আরও দাবি করেন, তাঁর সঙ্গেই প্রথমে খারাপ ব্যবহার করে রেস্তোরাঁর কর্মীরা। তিনি পার্কিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার কথা জানান।
আর এই বিতর্কের মধ্যেই সোহমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। একটি অডিয়ো ক্লিপ (এই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) ফাঁস করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সোহম একজন ‘পাকা’ ক্রিমিনাল! শঙ্কু যে অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এনেছেন, সেখানে শোনা গিয়েছে সোহম তাঁর আপ্ত সহায়ককে বিজেপি কর্মীদের মারধর করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

এমনকি, মেরে চেহারা নষ্ট করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। শঙ্কুর দাবি, এই ঘটনা গত একুশের বিধানসভার। সেই সময় সোহম নাকি বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করিয়েছেন। তাই এই নিউ টাউনের কাণ্ড সামনে আসতেই শঙ্কুর মন্তব্য, সোহম একেবারেই নিরীহ মানুষ নন, তিনি একজন ক্রিমিনাল!







