নজরবন্দি ব্যুরোঃ সিবিআই-এর ঘর থেকেই গায়েব বিপুল সোনা,অভূতপূর্ব ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের এ যেন চৌকিদারের ঘরেই চুরি। দেশের সবচেয়ে বড় তদন্তকারি সংস্থা সিবিআই এর হেফাজত থেকেই বেমালুম উধাও এক কুইন্টাল এর বেশি সোনা। যার মোট পরিমান ১০৩ কেজি। বর্তমান বাজারে যার মুল্য প্রায় ৪৫কোটি টাকা।বিপুল পরিমান এই সোনা সিবিআই হেফাজত থেকে কীভাবে হারিয়ে গেল তা নিয়ে প্রচুর ধোঁয়াশা রয়েছে সিবিআই এর অন্দরমহলেও।
আরও পড়ুনঃকংগ্রেস বিরোধী ছিল, কিন্তু তৃণমূল আমাদের শত্রু! বক্তা সেলিম


আরও লজ্জা ও অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালতের নির্দেশ। যে নির্দেশে এই তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে আর এক তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির(ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) উপর।ঘটনার সুত্রপাত ২০১২ সালে,যখন সুরানা কর্পোরেশন নামের চেন্নাই এর এক সংস্থার থেকে প্রায় ৪০০ কেজি বেআইনি সোনা বাজেয়াপ্ত করে তারা। গয়না ও বার আকারের ওই সোনা কেন্দ্রিয় সংস্থার বিভিন্ন ভল্টে সুরক্ষিত করে রাখা আছে বলে জানানো হয় সিবিআই এর তরফ থেকে।
এবং চাবি জমা আছে চেন্নাই এর এক বিশেষ আদালতে। তবে সেই চাবি জমা দেওয়ার কোন উপযুক্ত প্রমান আদালতে পেশ করতে পারেননি তারা।গত কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ সোনা নিয়ে প্রচুর মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। কিন্তু আদৌ তা ঠিক আছে কিনা, খতিয়ে দেখার প্রয়োজন কেউই বোধ করেনি। শেষমেশ গতবছর ডিসেম্বর মাসে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল ওই সোনা সুরানা কর্পোরেশনের ঋণ শোধ করার জন্য এসবিআই-সহ ছটি ব্যাংকের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে ব্যাঙ্ক কর্তাদের সামনে ভল্ট খুলতেই সিবিআই আধিকারিকেরা দেখেন ৪০০ কেজি সোনার ১০৩ কেজি বেমালুম গায়েব। মাথায় হাত পরে তাদের।আদালতে এই মামলা উঠলে সিবিআই পক্ষের আইনজীবী জানান বাজেয়াপ্ত করার সময় ওই সোনা একসাথে মাপা হলেও পরে আলাদা করে মাপার জন্য ওজনে কিছু হেরফের হয়েছে। যাকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জানান সোনা গাঁজা নয় যে উবে যাবে। এরপর তিনি নির্দেশ দেন এই মামলার তদন্ত যৌথভাবে করবে সিবি-সিআইডি।


সিবিআই-এর ঘর থেকেই গায়েব বিপুল সোনা,অভূতপূর্ব ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের সিবিআই একে অসম্মানজনক বলে অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার দ্বারা তদন্তের আর্জি জানালেও তা তৎক্ষণাৎ খারিজ করে দেন বিচারপতি। ভারতবর্ষে প্রথম ঘটা এই অভূতপূর্ব ঘটনায় সকলেই হতবাক।







