“মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক।”, রুমানা প্রসঙ্গে ফেসবুকে সরব তসলিমা

"মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক।", রুমানা প্রসঙ্গে ফেসবুকে সরব তসলিমা

নজরবন্দি ব্যুরো: “মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক।”- বলে এবার ফেসবুকে সরব হলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। খানিকটা সংসদ সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে সরব হলেন লেখিকা। তিনি জানান, দেশ তথা সমাজের একাধিক সমস্যার জন্য মুসলিমরা দায়ী। শুধু উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে একজন মুসলিম। এটা বলা যাবে না। খানিকটা ব্যাঙ্গাত্মক সুরেই ফেসবুকে লিখলেন এই বাংলাদেশী লেখিকা।

আরও পড়ুনঃ জনপ্রিয় কেষ্টদা, মমতা-অভিষেকের সঙ্গেই ত্রিপুরা ভোটে স্টার ক্যাম্পেনার অনুব্রত

রুমানা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “মুসলিমরা নামাজ পড়ার জন্য রাস্তা ব্লক করে ট্রাফিক জ্যাম বাড়ায়, জনগণের অসুবিধে করে। মুসলিমরা আত্মঘাতী বোমা হয়ে মানুষ খুন করে। মুসলিমরা বোমাবাজি করে। মুসলিমরা সন্ত্রাস করে। মুসলিমরা বহুবিবাহ করে। মুসলিমরা লাভ-জিহাদ করে।

মুসলিমরা আইন-বিরোধী ফতোয়া জারি করে। মানুষের মাথার মূল্য ধার্য করে, মুসলিমরা মানবাধিকার বিরোধী। মুসলিমরা নারীবিরোধী শরিয়া আইন বহাল রাখতে চায়। মুসলিমদের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না। মুসলিমদের কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না। এগুলো ঠিক আছে।”

“মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক।”, রুমানা প্রসঙ্গে ফেসবুকে সরব তসলিমা

তারপরই ব্যাঙ্গের সুরে তিনি লিখেছেন, “কিন্তু একটি মুসলিম মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করেছে বললে ঠিক নেই। তাহলে তো মনে হচ্ছে নিগেটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটি ব্যবহার করা চলতে পারে, পজিটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটির ব্যবহার চলতে পারে না! তখন বলতে হবে রুমানা সুলতানা পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। যেন রুমানা সুলতানা নামটা শুনে বোঝা যাবে না সে হিন্দু না মুসলিম!”

তাঁর মূল পরামর্শ, “মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক”। তিনি বলেন,”এতে মুসলিমরাও অনুপ্রাণিত হবে সামনে এগোতে। আর মুসলিম বিরোধীদেরও বোধোদয় হবে। আমি বলতে চাই একটি মুসলিম মেয়ে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে।”

উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে মুর্শিদাবাদের রুমানা সুলতানা। ফলপ্রকাশের দিন তাকে ‘মুসলিম গার্ল’ উল্লেখ করে বেজায় বিপাকে সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস। মেধার কোনও ধর্ম নেই, পড়ুয়াদের কোনও বিভাজন, এমন প্রচারে সরবও হয়েছেন নেটিজেনরা। মহুয়া দাসের মন্তব্য তিনি আবেগে এ কথা বলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here