বাংলায় নির্বাচনে মনোনয়নের ভাষা হিন্দি আর ইংরাজি! কি চাইছে কমিশন?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলায় নির্বাচনে মনোনয়নের ভাষা হিন্দি আর ইংরাজি! বাংলায় নির্বাচন অথচ অনলাইন আবেদনের ভাষা শুধু হিন্দি আর ইংরাজি! কমিশনের স্বাভাবিক ভুল না ইচ্ছাকৃত ভুল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করল। কোভিড পরিস্থিতিতে কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সশরীরে সরাসরি আবেদন পত্র জমা না দিলেও চলবে এবার। অনলাইনেও মনোনয়নের ব্যাবস্থা করেছে নির্বাচন। বাংলার আগে বিহারের নির্বাচনেও একই ব্যাবস্থা বলবৎ ছিল। কিন্তু সেই অনলাইন আবেদনেই এবার দানা বাঁধল ভাষা বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ আগামীকালই রাজ্যে আসছেন দুই পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক ও বিবেক দুবে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী দেশের কোন রাষ্ট্র ভাষা নেই। এদেশে সব ভাষাকেই সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। আর ইংরাজি যেহেতু আন্তর্জাতিক ভাষা সেক্ষেত্রে ইংরাজির ব্যাবহার চলে প্রায় সব যায়গাতেই। কিন্তু হিন্দি কেন? পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। এই চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত এলাকার কোনটিতেই হিন্দিভাষীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন। অথচ মনোনয়নের ভাষা চয়নের স্থানে রাখা হয়েছে ইংরাজির পাশাপাশি শুধুমাত্র হিন্দি ভাষা!

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার suvidha.eci.govin লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। সেখানেই দেখা যাচ্ছে ভাষা চয়নের জায়গায় রয়েছে হিন্দি আর ইংরাজি। ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা কমিশনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিজেপির প্রচ্ছন্ন মদত! কিন্তু কেন? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, আসলে হিন্দি কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বিজেপির। আর বিজেপি যেহেতু কেন্দ্রের ক্ষমতায় রয়েছে সেক্ষেত্রে এই ভাষা বিড়ম্বনা তৈরির পেছনে যে তাঁদের হাত নেই সেকথা কে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারে?

বাংলায় নির্বাচনে মনোনয়নের ভাষা হিন্দি আর ইংরাজি! আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভাষা একটা বড় বিষয় হতে চলেছে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতৃত্ব এই নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ কথাটিকে পাখির চোখ করেছেন। বহিরাগত বলতে মূলত তাঁদের লক্ষ্য বিজেপির হিন্দিভাষী অবাঙালি নেতারা। যারা বক্তৃতা করলেও হিন্দিতেই করেন। নির্বাচন কমিশনের এহেন ভুল বা ইচ্ছাকৃত ভুলে তৃণমূলের অভিযোগে কিছুটা সিলমোহর দিল বলেই মনে করছে রাজনোইতিক মহল।

আর পশ্চিমবাংলা ছাড়াও যে ৪টি রাজ্যে নির্বাচন সেখানে হিন্দি ভাষার মানুষ থাকলেও তা নগন্য। পশ্চিমবঙ্গের কথাই ধরা যাক। শেষ জনগননার তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলেন ৮৬ শতাংশ মানুষ। সেই রাজ্যেই নির্বাচন অথচ স্থান পেলনা বাংলা ভাষা! ইতিমধ্যেই বাংলা ভাষার স্থান না পাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন কে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনের নেতা কৌশিক মাইতি জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশন কি চাইছে? বাঙালি ভোটে লড়বে না? শুধুমাত্র হিন্দিভাষীরা লড়বে? ধিক্কার জানাই। অনেক জায়গায় ভোটের ট্রেনিং শুধুমাত্র হিন্দিতে হচ্ছে, বাংলার দাবি জানালে ” বাংলাদেশী” তকমাও জুটেছে। নির্বাচন কমিশন কি তাহলে সত্যিই বাংলা ও বাঙালি বিরোধী?”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর