নজরবন্দি ব্যুরোঃ চলতি মাসেই বগটুই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের মৃত্যু হয়েছে জেল হেফাজতে। লালনের সেই মৃত্যুর তদন্তে সিআইডির ওপরেই আস্থা রাখল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ। জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল আদালত। বিচারপতির নজরদারিতে অনুসন্ধানের যে আবেদন করা হয়েছিল তার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে আদালত। ফলত, আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের রুজু করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল আদালত।


গত ২১ মার্চ বগটুইয়ের নৃশংস হত্যার ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ফেরার ছিল ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত লালন। পরিচয়ে সে বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রয়াত ভাদু শেখের ঘনিষ্ঠ। গত ৪ ডিসেম্বর ঝাড়খন্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপর তাঁকে ৬ দিনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ১২ ডিসেম্বর সিবিআইয়ের রামপুরহাটের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে উদ্ধার হয় বগটুই গথটনায় অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ঝুলন্ত দেহ। খুন করা হয়েছে লালনকে এই অপভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে সিবিআই যাতে এই ঘটনার তদন্ত করে সেই আবেদনও জানানো হয়েছিল।
এদিন বিচারপতির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মামলাকারীর আইনজীবী কোনও সমান্তরাল তদন্ত চাইছেন না। এখানে নিরপেক্ষ সংস্থা বলতে কার কথা বোঝানো হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। কেন্দ্রের আইনজীবীর অভিযোগ, সিবিআই অফিসারদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এফআইআর করার পিছনেও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনাটি সিবিআই নিজেই খতিয়ে দেখছে।


জনস্বার্থ মামলা খারিজ, লালন মৃত্যুর তদন্ত করবে সিআইডি, রায়দান স্থগিত

একইসঙ্গে সিবিআইয়ের ৭ জন অফিসারদের বিরুদ্ধে লালনের পরিবার অভিযোগ জানানো হয়েছে, সেবিষয়েও অবগত করা হয়েছে আদালতকে।অভিযোগ, হেফাজতে রাখার সময় মারধর করা হয়েছে লালনকে। কিন্তু স্বাস্থ্য রিপোর্ট বলছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। ঘটনার তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মহেশকুমার মিত্তলের নেতৃত্বে একটি কমিটি।







