নজরবন্দি ব্যুরো:বাড়ি বন্দক থেকে মায়ের অলঙ্কার বিক্রি, অদম্য জেদ নিয়ে সারদার টাকা ফেরাছেন কুণাল ঘোষ। সারদা কেলেঙ্কারি থেকে বন্দিদশা, সব কাটিয়ে আবার ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফিরে এখন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। আর বাংলার নির্বাচনের ঠিক আগেই ফের তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে সারদা মামলাতে একাধিক বার তলব করেছে ইডি। কয়েকদিন আগেই কুণাল ঘোষ জানিয়েছিলেন সব টাকা তিনি ফিরিয়ে দেবেন। আজ নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে কুণাল নিজের এই বিবৃতি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন। প্রথমেই যদিও তিনি জানিয়েছেন এই টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো দায় নেই তাঁর। তবে ইচ্ছে ছিল অনেক দিন থেকেই।
সামর্থ্য ছিলনা। তিনি জানিয়েছেন সারদা থেকে প্রাপ্ত শুধু বেতনের টাকা নয়, স্বইচ্ছায় ফেরাচ্ছেন সারদার বিজ্ঞাপনের টাকা। তার সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন সারদা থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি টাকাই তাঁর বৈধ। নিয়োগপত্র ব্যাংক আয়কর সব প্রতিষ্ঠিত। এবং রীতিমত পেশাদারী করে পাওয়া কাজ। ২০১৩ সালে ইডি প্রথম তলব করে কুণাল ঘোষ কে। কুণালের মতে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য ছিলনা। তিনি এও দাবি করেন ২০১৫ তে ইডি যখন অনেকের নামে চার্জশিট দেয়, তখন নাম ছিলনা তাঁর। চক্রান্ত করে গায়ের জোরে জেল বন্দী করা হয়েছিল। সারদার টাকা ফেরতের বিষয়ে তিনি লক্ষ্যস্থির ছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। ধীরে ধীরে নিজের পারিবারিক বসত বাড়ি বন্দক দিতে, নিজের মায়ের অলঙ্কার এবং শুভাকাঙ্খীদের থেকে সাহায্য নিয়ে সেই অঙ্কে পৌঁছেছেন তিনি।

কত পরিমাণ টাকা কোন জায়গায় কিভাবে তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন সে বিষয়েও বিস্তারিত দিয়েছেন তিনি। ইডিকে দেবেন ২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা, কিছু জীবন বীমা আর ডেবিট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইডিকে গ্রহণ করতে বলেছেন। বাকি সব দেবেন ডিমান্ড ড্রাফটে। তার সঙ্গে তিনি এই বলেন, তিনি নিজেই বেতন ছাড়াও বিজ্ঞাপনের টাকা ফেরত দিচ্ছেন। কিন্তু তার সঙ্গে তিনি বলেছেন সব মিডিয়া যারা চিটফান্ডের খবর করে, তারা অন্যের খবর করার আগে নিজেরাও সব চিটফান্ড থেকে আসা টাকা ফেরত দিক। সব সংগঠন, সংস্থাও ফেরত দিক টাকা। আর যাদের কাছে বৈধ টাকা আছে তারাও ফিরিয়ে দিক টাকা। প্রসঙ্গত কুণাল ঘোষ সরদার টাকা ফেরত দিতে বলার সময়েই অনেকে বলেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও ফিরিয়ে দিয়েছেন টাকা, সেই প্রসঙ্গেও কুণাল বলেছেন, ২০১৩তে সরদার সংকটের সময় তো মিঠুন টাকা দেননি, দিয়েছিলেন জখন CBI ইডি চাপ পড়েছিল।
বাড়ি বন্দক থেকে মায়ের অলঙ্কার বিক্রি, অদম্য জেদ নিয়ে সারদার টাকা ফেরাছেন কুণাল ঘোষ।আর তিনি ফেরত দিয়েছেন কাজ না করে পাওয়া টাকা। কিন্তু অদম্য জেদ নিয়ে ধীরে ধীরে বিশাল পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে এবার ফিরিয়ে দিচ্ছেন কুণাল ঘোষ। বলছেন তাঁদের কাছে যাক, “যাঁদের এই মুহূর্তে সত্যি অর্থের প্রয়োজন। আমি সারদায় আয়মুক্ত জীবনে আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো, মামলা যা আছে বা আইনিভাবে থাকবে, সাধ্যমত লড়বো।”



