নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী তথা যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষের। ইতিমধ্যেই তাঁকে সিজিও কমপ্লক্সে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। কিন্তু তলবের পর থেকেই আচমকা গায়েব সায়নী। প্রশ্ন উঠছে কোথায় তিনি? কেন তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? চারিদিকে যখন এত শোরগোল সেই সময়েই এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
আরও পড়ুন: ইডির তলবের পরেই আচমকা গায়েব সায়নী! কোথায় যুব তৃণমূল নেত্রী?


কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “রথ, উল্টো রথ গেল, উপোস ছিল হয়ত, বলতে পারব না। জগন্নাথ দেবের পুজোর ব্যাপার আছে।” ইডির তলবের পর থেকে সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, কোনও কর্মসূচিতেও নেই তিনি। এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, “উপোস করে যদি দুর্বল লাগে জেলায় গিয়ে হাঁটবেন নাকি! আমার সঙ্গে কথা হয়নি। আমার ধারণা উল্টোরথে উপোস করেছিলেন, হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছেন।” আগামী শুক্রবার যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে। এই তলবে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, সায়নী ঘোষকে যে সময়ে তলব করা হচ্ছে তা বলেই দিচ্ছে যে এটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। ভোটের ঠিক আগেই কখনও অভিষেক কখনও তাঁর স্ত্রীকে ডাকা হচ্ছে। এছাড়া শাসক দলের নেতাদের মিথ্যে মামলায় ফাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষের সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সায়নী ঘোষের। দুজনের বেশকিছু চ্যাট হাতে এসেছে ইডির। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় সায়নীকে। তাঁর কাছ থেকে বিগত ১০ বছরের আয়কর রিটার্নের নথি চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের শুরু থেকে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব, তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ানও চাওয়া হয়েছে। তবে আগামীকাল সায়নী হাজিরা দেবেন কি না তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।



উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেছিল। কিন্তু বিজেপির অগ্নিমিত্রা পলের কাছে পরাজিত হন তিনি। ভোটে হারলেও দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। তৃণমূলের হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা যায় তাঁকে।
‘গায়েব’ সায়নী! কুণালের ব্যাখ্যা, উপোস করে দুর্বল হয়ে পড়েছেন








