সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে রোগী ফেরানোর অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ অঞ্জন অধিকারীকে সরিয়ে দেওয়া হল পদ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ডাঃ অঞ্জন অধিকারীকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর জায়গায় আপাতত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব সামলাবেন জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক চিকিৎসক শান্তনু সেন। সোমবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে বেড সংকট, দালালচক্র ও রোগী ভোগান্তি বন্ধ করতে স্বাস্থ্য দপ্তর কড়া অবস্থান নিয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ ছিল, কোনও রোগী যেন বেড না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে না যান। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে। তার পরেই এই প্রশাসনিক রদবদল।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তৃণমূল আমলে সরকারি হাসপাতালে ‘দালালরাজ’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে বেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও টাকার বিনিময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে একাধিকবার। সেই চক্র ভাঙতেই এখন আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।
কলকাতার পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে বাইরের লোকজনের অবাধ যাতায়াতেও নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের প্রবেশপথে বাড়ানো হবে নজরদারি। দর্শনার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি করা হবে। ভিজিটিং আওয়ার্স ছাড়া রোগীর আত্মীয়দের হাসপাতালের ভিতরে ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
শুধু তাই নয়, হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ও অন্যান্য কর্মীদের বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা হাসপাতালের ভিতরে অশান্তি তৈরি হলে কড়া পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। জরিমানা থেকে জেল— সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সুপার বদল তাই শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারের কড়া বার্তা বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।



