মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ‘জিরো টলারেন্স’-এ ধাক্কা! বেআইনি নির্মাণ ভাঙা ঘিরে হাই কোর্টে বিস্ফোরক মামলা

তপসিয়া ও কসবায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে গেলেন প্রায় ১০০ জন বাসিন্দা, শুক্রবার হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার তপসিয়া ও কসবা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস ঘিরে নতুন আইনি জট। পুরসভার পাঠানো ভাঙার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রায় ১০০ জন বাসিন্দা। মঙ্গলবার আদালতে মামলার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি পার্থসারথি সেন। আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

মঙ্গলবার হাই কোর্টে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আবেদনকারীদের দাবি, যেসব বাড়িকে বেআইনি নির্মাণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি বাড়ি ১৯৯২ সাল থেকেই রয়েছে। এত পুরনো নির্মাণের ক্ষেত্রেও ভাঙার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করার পর শহর ও শহরতলির একাধিক এলাকায় অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ‘জিরো টলারেন্স’-এ ধাক্কা! বেআইনি নির্মাণ ভাঙা ঘিরে হাই কোর্টে বিস্ফোরক মামলা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ‘জিরো টলারেন্স’-এ ধাক্কা! বেআইনি নির্মাণ ভাঙা ঘিরে হাই কোর্টে বিস্ফোরক মামলা

সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা তিলজলা, কসবা ও বেলেঘাটা এলাকায় একাধিক নির্মাণকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠায়। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় ওই নোটিস জারি করা হয়েছিল।

পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে একাধিক বহুতল তৈরি করা হয়েছে। কোথাও পাঁচতলা, কোথাও ছ’তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। কিছু ক্ষেত্রে একাধিক ব্লকে নির্মাণকাজও চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সূত্রের খবর, যেসব নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের নাম জড়িয়েছে। বেলেঘাটার একটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম উঠে এসেছে। অন্য দু’টি ক্ষেত্রেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুরসভার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও বৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে না। শুধুমাত্র প্ল্যান বহির্ভূত ও বেআইনি অংশের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভাঙার সময় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

গত রবিবার থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় এই অভিযান নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হল বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এখন নজর আগামী শুক্রবারের শুনানির দিকে। হাই কোর্ট এই ভাঙার নোটিসে স্থগিতাদেশ দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে তপসিয়া ও কসবাবাসী

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন