১৩ বছর পর ফের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের কেন্দ্রে উঠে এল কামদুনি মামলা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য পুনর্বিবেচনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই নির্যাতিতার পরিবার জানাল, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের প্রত্যাশা রয়েছে— দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলির উত্তর এবং সুবিচারের পথে নতুন উদ্যোগ দেখার।
উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি গ্রামে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে নির্যাতিতার অসমাপ্ত বাড়ি— যা পরিবারের কাছে এক গভীর স্মৃতির জায়গা। সেই বাড়ির পাশেই থাকেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার পর থেকে আন্দোলন, আইনি লড়াই— সব ক্ষেত্রেই তাঁরা সক্রিয় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও সেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।


পরিবারের সদস্যদের দাবি, আগের সময়ে আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের একাধিক প্রশ্ন ছিল। তাঁদের আশা, নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যদিও কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি।
এদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি দাবি করেছেন, রাজ্যের বহু মানুষ কামদুনির ঘটনার ফাইল নতুন করে খোলার পক্ষে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল এবং প্রকৃত অপরাধীদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখা প্রয়োজন।
শমীকের আরও দাবি, নির্যাতিতার পরিবার নতুন করে সুবিচারের আবেদন জানিয়েছে বলেই বিষয়টি আবার রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধের বিচার ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, শুধুমাত্র অপরাধের গুরুত্ব ও প্রমাণের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুনে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজছাত্রীর গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গোটা বাংলা উত্তাল হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল প্রতিবাদ আন্দোলন। তৎকালীন সরকারের ভূমিকা, তদন্তের গতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আন্দোলন একসময় রাজ্যের অন্যতম আলোচিত গণআন্দোলনের রূপ নেয়। এখন নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পুরনো ক্ষত ও বিচারপ্রত্যাশা আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



