তীব্র গরমে যখন নাজেহাল গোটা বাংলা, তখন অনেকেই খুঁজছেন এমন একটি জায়গা যেখানে মিলবে ঠান্ডা হাওয়া, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি। ঠিক এমন সময় পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের লেপচাজগত। দার্জিলিংয়ের কাছেই এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামকে এখন অনেকেই বলছেন বাংলার ‘মিনি কাশ্মীর’।
কলকাতা থেকে খুব কম সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই অফবিট ডেস্টিনেশনে। দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে যারা নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাঁদের কাছে লেপচাজগত এখন অন্যতম পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে। চারদিকে পাইন বন, কুয়াশা আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মনভোলানো দৃশ্য এই জায়গাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।



শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার রাস্তা। নিউ জলপাইগুড়ি বা বাগডোগরা পৌঁছে সহজেই গাড়ি ভাড়া করে চলে যাওয়া যায় লেপচাজগতে। কলকাতা থেকে ট্রেন বা বিমানে যাত্রা করলেও পুরো সফর খুব বেশি ক্লান্তিকর নয়। তাই উইকএন্ড ট্রিপের জন্য জায়গাটি এখন বাঙালিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
গরমের সময়েও এখানে তাপমাত্রা অনেকটাই কম থাকে। সকালে ঠান্ডা হাওয়া আর সন্ধ্যায় মেঘে ঢেকে যাওয়া পাহাড়ি পরিবেশ পর্যটকদের মন জিতে নেয়। বিশেষ করে যারা শহরের ৪০-৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থেকে কিছুটা স্বস্তি চান, তাঁদের জন্য এই জায়গা আদর্শ।

লেপচাজগতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর শান্ত পরিবেশ। দার্জিলিংয়ের মতো অতিরিক্ত ভিড় নেই, হোটেলের দামও তুলনামূলক কম। কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ-সহ একাধিক হোমস্টে এখন পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। অনেক পর্যটক আবার এখান থেকে সুখিয়াপোখরি, ঘুম বা দার্জিলিংও ঘুরে নিচ্ছেন।


প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই জায়গা যেন স্বর্গ। ভোরবেলায় পাহাড়ের উপরে সূর্যের আলো পড়ার দৃশ্য কিংবা মেঘের ফাঁক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা— সব মিলিয়ে কয়েক দিনের জন্য যেন অন্য এক জগতে পৌঁছে যাওয়া যায়। বর্ষা নামার আগের এই সময়টাকেই অনেকে লেপচাজগত ভ্রমণের সেরা সময় বলে মনে করছেন।

কম বাজেটে, কম সময়ে আর অতিরিক্ত ভিড় ছাড়া পাহাড় উপভোগ করতে চাইলে এই গরমেই একবার ঘুরে আসতেই পারেন উত্তরবঙ্গের এই ‘মিনি কাশ্মীর’ থেকে। শহরের দমবন্ধ গরম থেকে কয়েক দিনের মুক্তি চাইলে এই ট্রিপ আপনার জন্য একেবারে পারফেক্ট হতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



