১২ দিন কোমায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, নেতাজিনগরের স্কুলছাত্রের মৃত্যু ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের

নেতাজিনগরের মহর্ষি বিদ্যা মন্দির স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ নাথের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। স্কুলের গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের পরিবারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নেতাজিনগরের এক বেসরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ নাথের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ কলকাতায়। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ১২ দিন কোমায় থাকার পর রবিবার মৃত্যু হয় আয়ুষের। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা।

নেতাজিনগরের মহর্ষি বিদ্যা মন্দির স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া ছিল আয়ুষ। পরিবারের দাবি, গত ১৩ মে প্রতিদিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল সে। কিন্তু স্কুল ছুটির সময় বাবাকে হঠাৎ টিচার্স রুমে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ছেলে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আয়ুষকে। চিকিৎসকদের দাবি, মাথায় গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কোমায় চলে যায় সে। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত রবিবার হাসপাতালে মৃত্যু হয় শিশুটির।

ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আয়ুষের মা। তাঁর দাবি, স্কুলে পৌঁছেই অসুস্থ লাগার কথা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানিয়েছিল আয়ুষ। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাকে জানলার ধারে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সেই অবস্থাতেই কয়েক ঘণ্টা ক্লাসে বসেছিল শিশুটি। পরে ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে মাথায় চোট লাগে। কিন্তু সেই ঘটনার কথাও পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। আয়ুষের সহপাঠীদের কাছ থেকেই পরে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।

ঘটনার পর নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের রিপোর্টও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে আয়ুষের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান বহু অভিভাবক। তাঁদের দাবি, স্কুলের গাফিলতির কারণেই একটি শিশুর প্রাণ গেল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। এখন তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর সকলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন