রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালুর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বুধবার থেকেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ওই দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হবে আবেদনপত্র। শুধু অফলাইনে নয়, অনলাইনেও ফর্ম পূরণের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়েও নতুন ঘোষণা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের পুনর্গঠনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’কে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্য সাথী’কে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।


শুভেন্দুর বক্তব্য, নতুন প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম প্রকাশ করা হবে। তাঁর কথায়, যত দ্রুত নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন হবে, তত দ্রুত উপভোক্তাদের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আগামী ১ জুন থেকে ধাপে ধাপে নতুন প্রকল্পের অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ফর্ম জমা ও যাচাইকরণের সময় যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এ-ও স্পষ্ট করেছেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের নতুন সুবিধা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপভোক্তারা আগের নিয়মে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থ পেতে থাকবেন। অর্থাৎ পরিবর্তনের সময়ে সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।


আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে শুভেন্দু জানান, ফর্মের কপি যেমন পাওয়া যাবে, তেমনই ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থাও থাকবে। শুধু সাধারণ মানুষের উপর নির্ভর না করে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকেও যুক্ত করা হবে। বিধায়কদের উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে, পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা করার ব্যবস্থাও থাকবে।
এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন মা ক্যান্টিনে মাছ-ভাত দেওয়া হবে এবং দাম আগের মতোই ৫ টাকা থাকবে। নতুন সামাজিক প্রকল্পের পাশাপাশি এই ঘোষণা নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



