প্রায় তিন মাসের ডিজিটাল অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে ইন্টারনেট পরিষেবা ফিরে পেল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এবং দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ৮৭ দিন ধরে কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিল গোটা দেশ। মঙ্গলবার ইরান সরকার ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্দেশে ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হচ্ছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি জানান, ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গঠিত বিশেষ সাইবারস্পেস টাস্ক ফোর্সের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট।
ফাতেমে বলেন, “দেশবাসীর মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইন্টারনেট সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।” দীর্ঘদিন পর এই ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
নেটব্লকসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ইরানের বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে আংশিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছিল। পরে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতেই সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করে প্রশাসন।
এর ফলে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি মানুষ কার্যত বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ হারান। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ডিজিটাল পরিষেবাও থমকে যায়। দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনের নিরিখে এই ঘটনাকে বিশ্বরেকর্ড বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর আগে সুদানে গৃহযুদ্ধের কারণে ৩৬ দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। কিন্তু ইরানে একটানা ৮৭ দিনের নিষেধাজ্ঞা সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাকডোর কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও খবর। পাক মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের দাবি, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে নীতিগত ভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে চান না তিনি। ফলে শান্তি আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তবে এই আবহেই ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্তকে বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।



