মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে তেহরান। একের পর এক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব হারিয়ে কার্যত নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক। একই সঙ্গে প্রতিশোধ নেওয়ার কঠোর অঙ্গীকার করেছে ইরান, আর পাল্টা হামলা জারি রেখেছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুর স্বীকৃতি
রবিবার সকালে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা স্বীকার করার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী আগেই তাঁর মৃত্যুর দাবি করেছিলেন, যদিও তখন তা অস্বীকার করেছিল তেহরান।
সেনাপ্রধানও নিহত
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দলরহিম মৌসাভি নিহত হওয়ার খবর সামনে আসে। ২০১৭ সাল থেকে তিনি বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান মস্তিষ্ক বলে পরিচিত ছিলেন। কঠিন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় দক্ষতার জন্য তাঁকে ‘ম্যান ফর ডিফিকাল্ট মিশনস’ বলা হতো।
খামেনেই ঘনিষ্ঠদের টার্গেট
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি, যৌথ মার্কিন–ইজ়রায়েলি হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু সুপ্রিম লিডার নয়, তাঁর ঘনিষ্ঠ ক্ষমতাকেন্দ্রকেও ভেঙে দেওয়া। ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর কমান্ডার মহম্মদ পাকপৌর-সহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ সাত নেতার মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।
নতুন কমান্ডার নিয়োগ
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গঠন করেছে তেহরান। প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ বাহিদি-কে আইআরজিসির নতুন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর পাল্টা সামরিক অভিযানের দায়িত্ব এখন তাঁর হাতেই।
বাড়ছে যুদ্ধের তীব্রতা
বিদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এখনও পর্যন্ত সংঘাতে ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে ১২০০টিরও বেশি বোমা পড়েছে ইরানে। রবিবার দুপুরে ফের তেহরানে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আরও শক্তিশালী আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এই ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।



