তামিল সিনেমায় আজকের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির একটি ‘সিগমা’। কারণ শুধু ছবির নায়ক সুনদীপ কিশন নন, এই ছবির পরিচালক জেসন সঞ্জয়—তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা বিজয়ের ছেলে। ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। মুক্তির আগেই জেসনের ডেবিউ ঘিরে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, প্রথম দিনের শো-এর পর তা আরও বেড়েছে। দর্শকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ছবির কমেডি, অ্যাকশন, সুনদীপ কিশনের অভিনয় এবং কিছু টুইস্ট প্রশংসা পেয়েছে। আবার গল্পের গতি ও প্রথমার্ধ নিয়ে মিশ্র মতও সামনে এসেছে।
‘সিগমা’ মূলত অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হেইস্ট ছবি। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা ঘিরে একটি অপরাধচক্র এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কয়েকটি চরিত্র। সুনদীপ কিশনের চরিত্রকে ঘিরেই এগিয়েছে ছবির মূল গল্প। ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ফারিয়া আবদুল্লাহ। জেসন সঞ্জয়ের প্রথম ছবি হিসেবে সিনেমাটি যে নিজের আলাদা জগৎ তৈরি করার চেষ্টা করেছে, সেটিও মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল।
প্রথম দিনের দর্শক প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি যে নামটি উঠে আসছে, তিনি সুনদীপ কিশন। বিশেষ করে তাঁর কমেডি এবং অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের একটা বড় অংশকে সন্তুষ্ট করেছে। Times of India-র প্রকাশিত সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার সংকলনেও সুনদীপের অভিনয় এবং কমেডি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্যের কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অ্যাকশন ব্লক এবং ইন্টারভ্যাল অংশ নিয়েও প্রশংসা রয়েছে। [‘Drishyam: The Conclusion’ রিভিউ: বিজয় সালগাঁওকরের শেষ চাল কি আগের দুই ছবির জাদু ফিরিয়ে আনতে পারল?]
তবে ‘সিগমা’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া একেবারে একমুখী নয়। কিছু দর্শকের মতে প্রথমার্ধ ধীর গতির হলেও গল্পের ভিত তৈরি করে। অন্যদিকে কয়েকজন দর্শক সম্পাদনার ধরন এবং গল্পের গতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। অর্থাৎ প্রথম শো-এর প্রতিক্রিয়াতেই বোঝা যাচ্ছে, ছবির প্রথম ভাগ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে পুরোপুরি একমত হওয়ার জায়গা তৈরি হয়নি।
জেসন সঞ্জয়ের পরিচালনাও একই ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কেউ কেউ তাঁর প্রথম ছবিতে পরিণত পরিচালনার ছাপ দেখতে পেয়েছেন। বিশেষ করে শট ডিভিশন, আর্ট ওয়ার্ক এবং দৃশ্য নির্মাণের প্রশংসা করেছেন কিছু দর্শক। আবার অন্য অংশের দর্শক মনে করছেন, ছবির গল্প ও গতি আরও শক্তিশালী হতে পারত। ফলে ‘সিগমা’কে জেসনের পরিচালনার চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিচার করার জন্য আরও বিস্তৃত দর্শক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
ছবির ইন্টারভ্যাল নিয়েও বেশ কিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রথম দিনের দর্শক মতামতে টুইস্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং অ্যাকশন-নির্ভর ইন্টারভ্যাল ব্লকের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ গল্পের কিছু জায়গায় জেসন সঞ্জয় দর্শককে ধরে রাখতে পেরেছেন বলেই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলি ইঙ্গিত করছে।
‘সিগমা’-র মুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পারিবারিক আবেগও কম নয়। ছবির প্রথম দিনের শো দেখতে চেন্নাইয়ের কামালা সিনেমাসে পৌঁছেছিলেন জেসনের মা সঙ্গীতা এবং বোন দিব্যা সাশা। জেসনের পরিচালনায় প্রথম ছবি মুক্তির দিনে পরিবারের এই উপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছে।
ছবিটি মুক্তির আগে জেসনকে নিয়ে প্রত্যাশার চাপও ছিল যথেষ্ট। তাঁর বাবা বিজয়ের জনপ্রিয়তার কারণে জেসনের প্রথম ছবি নিয়ে আলাদা কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জেসন নিজেই জানিয়েছেন, তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চান। মুক্তির পর সেই আলোচনাই এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে ছবির কাজের দিকে—অর্থাৎ পরিচালক হিসেবে তিনি কী করতে পেরেছেন, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
এর মধ্যে মুক্তির আগেই ‘সিগমা’কে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক পোস্ট নিয়ে সরব হয়েছিলেন সুনদীপ কিশন। অভিনেতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ছবি ও জেসন সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই বিতর্ককে ছবির দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
এই মুহূর্তে ‘সিগমা’-র সবচেয়ে পরিষ্কার ছবি হল—সুনদীপ কিশনের পারফরম্যান্স, কমেডি ও অ্যাকশন বেশ কিছু দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছে; অন্যদিকে জেসন সঞ্জয়ের পরিচালনা এবং ছবির প্রথমার্ধ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রথম দিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়াকে তাই চূড়ান্ত রায় হিসেবে না দেখে প্রাথমিক দর্শক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত। ছবিটির বক্স অফিস পারফরম্যান্স এবং আগামী কয়েক দিনের দর্শক মতামতই শেষ পর্যন্ত ‘সিগমা’-র অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে।
নজরবন্দির রিভিউয়ের সারকথা: ‘সিগমা’ প্রথম ছবিতেই জেসন সঞ্জয়ের সামনে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ছবির সব অংশ নিয়ে দর্শক একমত না হলেও সুনদীপ কিশনের অভিনয়, কমেডি, অ্যাকশন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ইতিমধ্যেই আলোচনায়। জেসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তিনি নিজের প্রথম ছবিতে কতটা আলাদা পরিচালকের ছাপ রাখতে পেরেছেন—তার উত্তর নিয়ে আপাতত দর্শকদের মত দুই ভাগে।



