গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে মোদি, বাপুর আদর্শেই ‘বিকশিত ভারত’-এর বার্তা

মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে রাজঘাটে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সত্য, অহিংসা, স্বদেশী ও খাদির আদর্শের কথা স্মরণ করে ‘বিকশিত ভারত’-এর বার্তা দেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে শুক্রবার সকালে দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে রাজঘাটে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনা সভাতেও অংশ নেন তিনি। একই দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সাধারণ মানুষ।

রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানানোর পর সমাজমাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে সত্য, অহিংসা, সেবা, স্বদেশী এবং মানবতার প্রসঙ্গ। মোদি লিখেছেন, বাপুর কালজয়ী বার্তা আরও উন্নত সমাজ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর পথ দেখাতে পারে। এই বার্তাই ২০২৬ সালের গান্ধী জয়ন্তীতে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিন গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর জীবন, তাঁর আদর্শ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, গান্ধীর চিন্তাধারা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বহু মানুষকেই তা অনুপ্রাণিত করেছে।

স্বদেশী ভাবনার কথাও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গান্ধীজির সঙ্গে খাদির সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ২ অক্টোবর অন্তত একটি খাদি পণ্য কেনার আবেদন জানান তিনি। স্থানীয় ভাবে তৈরি সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে স্বদেশী ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় গান্ধীর আদর্শকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টাও দেখা গিয়েছে। সত্য, অহিংসা, সরলতা, করুণা এবং স্বদেশী—এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে একটি উন্নত সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে বাপুর ভাবনাকে যুক্ত করেই এদিনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানান কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সর্বধর্ম প্রার্থনা সভায় অংশ নেন তাঁরা। পরে রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে সত্য, অহিংসা এবং নির্ভীকতাকে মহাত্মা গান্ধীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, সত্য ও অহিংসার পথে অবিচল থাকার মধ্যেই প্রকৃত শক্তি রয়েছে। গান্ধী জয়ন্তীতে বাপুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর দেখানো পথ অনুসরণের কথাই তুলে ধরেছেন কংগ্রেস নেতা।

দিল্লিতে এদিন শুধু প্রধানমন্ত্রী বা কংগ্রেস নেতৃত্বই নয়, একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও রাজঘাটে গিয়ে সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নেন। তাঁর বার্তায় শান্তি ও অহিংসার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই দেশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীও পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন বিজয়ঘাটে গিয়ে শাস্ত্রীর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। ফলে ২ অক্টোবর দেশজুড়ে দুই জাতীয় নেতার জীবন ও আদর্শ স্মরণ করা হচ্ছে।

গান্ধী জয়ন্তী ২০২৬-এ তাই রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সামনে এসেছে স্বদেশী, খাদি, সত্য ও অহিংসার মতো দীর্ঘদিনের গান্ধীয় মূল্যবোধ। রাজঘাট থেকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় যেমন ‘বিকশিত ভারত’-এর সঙ্গে বাপুর আদর্শকে যুক্ত করা হয়েছে, তেমনই বিরোধী নেতৃত্বও সত্য ও অহিংসার পথ অনুসরণের কথা স্মরণ করিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন