এশিয়ান গেমসের ১৪তম দিনে ভারতের ঝুলিতে এল জোড়া ঐতিহাসিক সোনা। তিরন্দাজির ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে দুরন্ত লড়াই করে সোনা জিতলেন ১৭ বছরের কুমকুম মোহোদ। এরপর গলফে ইতিহাস তৈরি করলেন প্রণবী উরস। মহিলাদের ব্যক্তিগত গলফে এশিয়ান গেমসে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে সোনা জিতলেন তিনি।
এই দুই সাফল্যের পর ভারতের সোনার সংখ্যা পৌঁছে গেল ১৮-তে। সামগ্রিক পদক তালিকাতেও পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। শেষ দিনে একের পর এক সাফল্যে ভারতীয় শিবিরে তাই উৎসবের আবহ।
মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ইয়ে-জিনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কুমকুম মোহোদ। শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে। নির্ধারিত পাঁচ সেটের শেষে দু’জনের স্কোর দাঁড়ায় ৫-৫।
এরপর সোনা নির্ধারণের জন্য হয় শুট-অফ। সেখানেই নিজের স্নায়ুর জোর দেখান ভারতের তরুণ তিরন্দাজ। একটি মাত্র তিরে কুমকুম ১০ পয়েন্ট স্কোর করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষের তির গিয়ে থামে ৮ পয়েন্টে। ফলে ১০-৮ ব্যবধানে শুট-অফ জিতে সোনা নিশ্চিত করেন কুমকুম।
এই জয়ের সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত মহিলা রিকার্ভে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে সোনা জিতলেন কুমকুম। এর আগে দলগত রিকার্ভ ইভেন্টেও সোনা জিতেছেন তিনি। মিক্সড রিকার্ভে ধীরাজ বোম্মাদেবরার সঙ্গে তাঁর ঝুলিতে এসেছে রুপো।
কুমকুমের এই সাফল্য শুধু এশিয়াডের পদকেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য ভারতের একটি কোটা স্থানও নিশ্চিত হয়েছে। তবে এই কোটা দেশের জন্য, সরাসরি কুমকুমের ব্যক্তিগত অলিম্পিক স্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
তিরন্দাজির পর গলফ থেকেও এল ঐতিহাসিক সাফল্য। ২৩ বছরের প্রণবী উরস মহিলাদের ব্যক্তিগত স্ট্রোক প্লে ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করলেন। তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা গলফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন।
চার রাউন্ড মিলিয়ে প্রণবীর মোট স্কোর ১৫-আন্ডার-পার ২৬৫। শেষ রাউন্ডে ৭০ শট খেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ সামলে এগিয়ে থাকেন তিনি। মাত্র এক শটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতীয় গলফার।
প্রণবীর এই সাফল্যের আরও একটি ঐতিহাসিক দিক রয়েছে। এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ ব্যক্তিগত গলফ সোনা এসেছিল ২০০২ সালে, পুরুষদের বিভাগে শিব কাপুরের হাত ধরে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ব্যক্তিগত গলফে আবার সোনা এল ভারতের ঘরে। এবার সেই সাফল্য এনে দিলেন এক ভারতীয় মহিলা।
শুধু ব্যক্তিগত ইভেন্টেই নয়, দলগত বিভাগেও ভারতের পদক এসেছে। প্রণবী উরসের সঙ্গে অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগার মিলে ভারতকে রুপো এনে দিয়েছেন। তিনজনের সম্মিলিত স্কোর ছিল ১৪-আন্ডার-পার ৫৪৬। দলগত বিভাগে চিন ২২-আন্ডার-পার ৫৩৮ স্কোর করে সোনা জিতেছে।
এশিয়ান গেমসের শেষ পর্বে ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্স তাই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিরন্দাজিতে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কুমকুম মোহোদের ইতিহাস, আর গলফে প্রণবী উরসের নজির—দুই সোনার হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন ভারতের মেয়েরা।
এশিয়াডের শেষ দিনে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়ছে। আর এই সাফল্যের অন্যতম বড় দুই মুখ হয়ে উঠলেন কুমকুম মোহোদ ও প্রণবী উরস। একজন তির হাতে ইতিহাস লিখলেন, অন্যজন গলফ ক্লাব দিয়ে ভাঙলেন দীর্ঘ অপেক্ষা।



