জ্ঞানেশকে সরানোর দাবিতে দিল্লিতে তুমুল বিক্ষোভ, বন্ধ ইন্টারনেট! ১১ মেট্রো স্টেশনেও তালা পুলিশের

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, কড়া নিরাপত্তায় বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট ও ১১ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির Jantar Mantar-এ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তেজনা। SIR বা Special Intensive Revision-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনগুলির একাংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে। ২ অক্টোবরের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দিলেও বিক্ষোভকারীদের জমায়েতের আশঙ্কায় মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Jantar Mantar এবং আশপাশের এলাকায় জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। দিল্লি পুলিশ BNSS-এর ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে অনুমতি ছাড়া জমায়েত, মিছিল, ধর্না, স্লোগান এবং প্রকাশ্য বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, Jantar Mantar-এ কোনও সংগঠনকেই শুক্রবারের কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরিস্থিতির মধ্যে Jantar Mantar সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থলের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা মধ্যরাত পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ।

শুধু ইন্টারনেট পরিষেবাই নয়, দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনেও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে। Jantar Mantar ঘিরে পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বাহিরের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রীদের জন্য interchange পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।

Jantar Mantar-এর দিকে যাওয়ার রাস্তাতেও নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে ট্র্যাফিক পুলিশ। Connaught Place, Patel Chowk, GPO, Tolstoy Marg, Jantar Mantar Road এবং Parliament Street-সহ একাধিক এলাকায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ করার কথা জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের ডাক দেওয়া সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে All India Students’ Association (AISA)। রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। SIR এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের ফলে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযোগগুলি অবশ্য রাজনৈতিক ও সংগঠনগুলির বক্তব্য হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের টানাপড়েনও শুরু হয়। AAP-এর দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করা আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

এদিকে, এই আন্দোলনকে ঘিরে আলাদা একটি রাজনৈতিক পরিসরও তৈরি হয়েছে। INDIA জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর ‘Save Democracy’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ও সভা এবং ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, Cockroach Janta Party (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে পৃথক আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দাবি পূরণ না হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হবে এবং অক্টোবরের শেষ দিকে দিল্লির Jantar Mantar-এ আরও বড় কর্মসূচি করা হবে। CJP-র তরফে জানানো হয়েছে, তারা বিরোধীদের ৬ অক্টোবরের কর্মসূচির অংশ নয় এবং নিজেদের আন্দোলন আলাদা ভাবে চালাবে।

দিল্লির পাশাপাশি ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের Shivaji Park-এও CJP-র বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে পুলিশের অনুমতি না মেলায় সংগঠনটি ‘Jail Bharo Andolan’-এর ডাক দিয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের দিল্লির বিক্ষোভকে ঘিরে প্রশাসনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের মূল দাবি নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী, SIR এবং ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁদের অভিযোগের জবাব দেওয়া। ফলে ২ অক্টোবরের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেবে, তা এখন নজরে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন