মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার, ২ অক্টোবর পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিকেল ৪টেয় ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। একই দিনে দিল্লির যন্তর মন্তরেও SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। দুই শহরেই পুলিশের কড়া নজরদারি এবং অনুমতি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে CJP Protest এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। সংগঠনের তরফে SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করা, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নির্বাচন করার দাবি এবং নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার দাবিও সামনে আনা হয়েছে। CJP-র বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অংশ নয়।
মুম্বইয়ে আজকের কর্মসূচির আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিবাজি পার্কে জমায়েতের জন্য CJP পুলিশের অনুমতি চেয়েছিল। অনুমতি না মেলায় সংগঠনের তরফে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ঘোষণা করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, শিবাজি পার্কে জমায়েতের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশ এবং এলাকার ‘সাইলেন্স জোন’ হিসেবে চিহ্নিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। [জ্ঞানেশকে সরানোর দাবিতে দিল্লিতে তুমুল বিক্ষোভ, বন্ধ ইন্টারনেট! ১১ মেট্রো স্টেশনেও তালা পুলিশের]
শুক্রবার সকালেও পরিস্থিতি নিয়ে তৎপরতা ছিল। মুম্বইয়ে CJP-র একটি প্রতিনিধি দলের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে। শিবাজি পার্কের গেট নম্বর ৬-এর কাছে কর্মসূচি ঘিরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন। এখনও সেখানে আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি বলেই সর্বশেষ খবর।
এরই মধ্যে অভিজিৎ দীপকেকে ঘিরে আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মেরিন ড্রাইভে সমর্থকদের সঙ্গে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কয়েক মিনিট পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে CJP এই ঘটনাকে ‘আটক’ হিসেবে মানতে নারাজ। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, দীপকে আটক হওয়ার খবরটি বিভ্রান্তিকর। ফলে এই ঘটনা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
দিল্লিতেও শুক্রবার সকাল থেকেই আলাদা কর্মসূচিকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যন্তর মন্তরে ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনগুলির বিক্ষোভের ডাক রয়েছে। AISA-সহ কয়েকটি সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ এই কর্মসূচির পাশে রয়েছে। তাঁদের মূল দাবি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহি।
তবে দিল্লি পুলিশ এই জমায়েতের অনুমতি দেয়নি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, ধর্না, বিক্ষোভ এবং স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লির যান চলাচলেও তার প্রভাব পড়েছে। যন্তর মন্তর, টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ এবং কানট প্লেস সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও গাড়িচালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশ।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এই আন্দোলনের পেছনে মূল রাজনৈতিক বিতর্ক SIR। ভোটার তালিকার Special Intensive Revision নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছে। বিতর্ক আরও বাড়ে, যখন প্রকাশিত নথিতে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশির তরফে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর কথা সামনে আসে। ওই আপত্তিগুলির কিছু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল বলে নথি-ভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, SIR-সহ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন সদস্যের কমিশন সর্বসম্মতভাবেই নিয়েছে। কমিশনের তরফে SIR-এর উদ্দেশ্য হিসেবে যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিক জায়গায় থাকা বা অযোগ্য নাম শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আন্দোলনকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি কমিশনের ব্যাখ্যাও রয়েছে।
CJP-র আন্দোলন অবশ্য আজ মুম্বইয়ের কর্মসূচিতেই থামছে না। সংগঠনের নেতৃত্ব জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন অন্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, গোয়া-সহ একাধিক জায়গায় পরবর্তী কর্মসূচির কথা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।
আজকের CJP Protest-এর ক্ষেত্রে তাই নজর থাকবে মূলত মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিকেল ৪টার কর্মসূচি এবং দিল্লির যন্তর মন্তরের পরিস্থিতির দিকে। পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কর্মসূচি চালানোর CJP-র অবস্থান এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা—দুইয়ের সংঘাতেই দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তবে কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা বড় আকার নেয়, তা নির্ভর করবে জমায়েত, পুলিশের পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।



