রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই আবার নজরে এল হাকিমপুর সীমান্ত। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানে জড়ো হন বহু মানুষ, যাঁদের একাংশ নিজেদের বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিয়ে জানান— তাঁরা ভারতে আর থাকতে চান না এবং বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। এই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রতিক্রিয়া দেন। নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হাকিমপুরের পরিস্থিতি তিনি দেখেছেন এবং এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব?” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্য তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর চেকপোস্টে শতাধিক পুরুষ ও মহিলা জমায়েত হন। তাঁদের কয়েক জন দাবি করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। কেউ তিন বছর, কেউ পাঁচ বছর ধরে এখানে কাজ করেছেন বলেও জানান। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের অবস্থান বদলানোর পর তাঁরা আর এখানে নিরাপদ বা স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না।
জমায়েতে থাকা এক মহিলা দাবি করেন, তিনি কয়েক বছর ধরে ভারতে ছিলেন এবং এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। অন্য এক ব্যক্তি জানান, তিনি রঙের কাজ করতেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আর থেকে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।
প্রসঙ্গত, গত বছর ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল হাকিমপুর সীমান্তে। তখনও বহু মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়ে নিজেদের বাংলাদেশ থেকে আসা বলে দাবি করেছিলেন।
নতুন সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশকারী বিদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা বা যাঁদের বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে— তাঁদের নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে। সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে আটক করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সীমান্তে জমায়েত হওয়া ব্যক্তিদের আইনি অবস্থান, যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনও প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে রয়েছে। ফলে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকছে।



