রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। টলিউড অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের মনোনীত সাংসদ বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাজ্যসভায় দলের শক্তি আরও কমে গেল। ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদের ইস্তফার জেরে চাপে থাকা তৃণমূলের জন্য এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হলো। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে সাংসদ পদ ছাড়লেন তিনি।


এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কোয়েলের ইস্তফার পর উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ৯-এ।
দলের অন্দরে ভাঙনের আবহ আরও গভীর হচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহ এবং আগামী সপ্তাহ মিলিয়ে আরও কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। ফলে তৃণমূলের সংসদীয় শক্তি আরও কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি বড় অংশ আলাদা অবস্থান নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে লোকসভাতেও দলের একাংশের অবস্থান নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।


তবে রাজ্যসভার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এখানে একযোগে দল ভাঙার সাংবিধানিক সমীকরণ কঠিন হওয়ায় একে একে ইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলে সেখানে কোয়েল মল্লিকের নাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে। পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে সাংসদ হিসেবে শপথও নেন তিনি। সেই সময় জনসেবাকে ‘মহৎ দায়িত্ব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অভিনেত্রী।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগ নতুন প্রশ্ন তুলে দিল দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক স্থিতি নিয়ে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের ক্রমহ্রাসমান উপস্থিতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



