তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ও মতবিরোধ নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন কীর্তি আজাদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কল্যাণের প্রকাশ্য ক্ষোভের পর রাজনৈতিক মহলে যখন দল ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢাললেন তৃণমূলের এই সাংসদ।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তি আজাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সৈনিক এবং তিনি দল ছাড়বেন না। তাঁর কথায়, কল্যাণ একজন লড়াকু নেতা, যিনি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলার দায়িত্ব তাঁকে না দিয়ে অন্য আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরেই তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
কীর্তি আজাদ মনে করেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভকে অবহেলা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আস্থায় না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। দলীয় নেতৃত্বের তরফে আগেভাগেই বিষয়টি তাঁকে জানানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে কীর্তি আজাদ জানিয়েছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবেগপ্রবণ মানুষ এবং তাঁর বক্তব্যকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা দলত্যাগের ইঙ্গিত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, দলীয় নেতৃত্ব এখনও পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
কীর্তি আজাদের বিশ্বাস, এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপই সমস্যার সমাধান করবে। তাঁর কথায়, “দিদি কথা বলবেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি কার্যত বার্তা দিয়েছেন, মতবিরোধ থাকলেও তৃণমূলের অন্দরে এখনও সংলাপের পথ খোলা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কীর্তি আজাদের এই বক্তব্য শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে জল্পনারই জবাব নয়, বরং দলের ভিতরে ঐক্যের বার্তাও বহন করছে। এখন নজর থাকবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ করেন তার উপর।



