‘মমতাদিকে বাছতে হবে আমি, না অভিষেক!’ হুঙ্কার দিলেন চরম অপমানিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সামনে ‘আমি না অভিষেক’ প্রশ্ন তুলে বাড়ালেন চাপ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। সেই আবহেই এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যেই তিনি জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দলে তিনি থাকবেন, নাকি অভিষেক। হাই কোর্টে অভিষেকের একটি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কল্যাণ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলার শুনানি ছিল শুক্রবার। সেই মামলার আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর অভিযোগ, রাতে তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানানো হয় যে মামলায় অন্য এক আইনজীবী সওয়াল করবেন।

এই ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন কল্যাণ। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪৫ বছরের আইনজীবী জীবনে এমন আচরণ তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাঁর দাবি, আদালতে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি নিজেই। অথচ পরে তাঁকে কার্যত পাশ কাটিয়ে অন্য আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই আচরণ কেবল অসম্মানজনকই নয়, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঔদ্ধত্যের’ পরিচয় বহন করে। তাঁর অভিযোগ, দলের বর্তমান অবস্থার জন্যও দায়ী অভিষেক। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কর্মীদের নানা অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের ‘সবচেয়ে সৎ রাজনীতিক’ বলেও দাবি করেন কল্যাণ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য অটুট থাকলেও অভিষেকের আচরণ তিনি আর মেনে নিতে রাজি নন। তাঁর অভিযোগ, দলের বহু নেতাকর্মীকে কর্মচারীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা টানাপোড়েনের মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সমীকরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তাঁর বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর