রাজ্যে অভিযুক্তদের অন্তর্বাসে প্রকাশ্যে হাঁটানোর ঘটনায় সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের সাম্প্রতিক কড়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোনও অভিযুক্তকে এভাবে জনসমক্ষে অপমান করা মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক মর্যাদার পরিপন্থী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কল্যাণ। তিনি জানান, অপরাধকে কোনওভাবেই সমর্থন করছেন না, কিন্তু আইন নিজের পথে চলার আগেই কাউকে অন্তর্বাসে রাস্তায় ঘোরানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের অন্তর্বাস পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটানো হচ্ছে। সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ।
তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করছেন, প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা গেলে অনেক সময় তার অপব্যবহার শুরু হয়। তাঁর কথায়, “ন্যায়বিচারের জায়গা দখল করে নেয় বর্বরতা।”
তিনি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাঁকে জনসমক্ষে অপমান করা যায় না। আদালতে দোষ প্রমাণ হওয়ার আগে অভিযুক্তেরও সাংবিধানিক অধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি।
তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের এই কড়া অবস্থানকে সাধারণ মানুষ সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরেই মতভেদের ইঙ্গিত মিলছে। কারণ একদিকে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থন করা হচ্ছে, অন্যদিকে দলেরই এক প্রবীণ সাংসদ মানবাধিকার ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলছেন প্রকাশ্যে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও বলছেন, ভারতীয় সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার অধিকার দেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে। তাই তদন্ত চলাকালীন প্রকাশ্যে অপমানের ঘটনা ভবিষ্যতে আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ না করে ‘সার্কাস দলের মতো আচরণ’ শুরু করে, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
এই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ পুলিশের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়



