পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় ফেললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জেলের অন্দরে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে ‘অমানবিক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। ইদের দিনে ছেলের সঙ্গে কথোপকথনের পর সামনে আসে বিস্ফোরক এই দাবি—যা ঘিরে ফের চাপে পড়েছে পাকিস্তানের প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা।
ইমরানের ছেলে কাশিম খানের দাবি, কারাগার থেকে তাঁর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের বিচারপতিদের নিজেদের ভূমিকা নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত স্বার্থে তাঁরা ন্যায়বিচার বিসর্জন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এরপরই সরাসরি স্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলে ইমরান অভিযোগ করেন, তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্যই বুশরা বিবির উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্যই আমার স্ত্রীর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।”
ইমরানের দাবি অনুযায়ী, বুশরা বিবিকে সম্পূর্ণ একাকী একটি সেলে রাখা হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি মেলে, অনেক সময় সেটুকুও দেওয়া হয় না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। ১৯০ মিলিয়ন ইউরোর দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও ৭ বছরের সাজা পেয়েছেন। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের দেশজোড়া অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা চলছে।
গত মাসেই ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়ায়। তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছে—এমন খবর সামনে আসার পর একাধিক প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক, যেমন সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়া, ইয়ান চ্যাপেল-সহ মোট ১৪ জন ক্রীড়াবিদ তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দেন। পরে তাঁর জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর প্রতি আচরণ নিয়ে ইমরানের নতুন অভিযোগ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় তুলে আনল।



