রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় পাল্টা অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট, আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত— নানা ইস্যুতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস–এর মধ্যে টানাপড়েন ক্রমশই তীব্র হয়ে উঠছে। রাজ্যপাল মঙ্গলবার হেয়ার স্ট্রিট থানায় কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার থানায় হাজির হন কল্যাণ। এ বার তিনিই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিলেন। অভিযোগপত্রে তিনি ‘রাজ্যপাল’ শব্দ ব্যবহার না করে উল্লেখ করেছেন— ‘সিভি আনন্দ বোস, যিনি রাজভবনে থাকেন’।

অভিযোগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রাজ্যপাল একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তিযোগ্য। তাঁর মতে, এই মন্তব্যগুলি রাজ্যের নির্বাচন পদ্ধতি, ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সরাসরি আঘাত করে।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৫ নভেম্বর রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপালের মন্তব্যকে কল্যাণ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। সেই দিন রাজ্যপাল বলেছিলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হিংসা ও দুর্নীতিমুক্ত করতে না পারলে রাজ্য মর্যাদা পাবে না। পশ্চিমবঙ্গে বুলেট নয়, ব্যালটে ভোট হওয়া উচিত।” কল্যাণের দাবি, এই মন্তব্য রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর সরাসরি আক্রমণ, এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নাক গলানোর চেষ্টা।

এর পাশাপাশি ১৭ নভেম্বর একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে রাজ্যপাল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মানুষের রক্তে হোলি খেলার ঐতিহ্য রয়েছে।” এই মন্তব্যকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘গুরুতর’, ‘অশালীন’ এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী’ বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এতে হোলি বা দোলপূর্ণিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসবকে অপমান করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজ্যপালের এমন মন্তব্য মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি করতে পারে।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিযোগপত্রে কল্যাণ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন— ৮ অক্টোবর রাজ্যপালের মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশই আইনশৃঙ্খলার গলা টিপে ধরছে। পুলিশের একটি অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং রাজনৈতিকভাবে চালিত।” কল্যাণের বক্তব্য, এই মন্তব্য একতরফা, সাজানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর মতে, এমন বক্তব্যে রাজ্য পুলিশের সম্মানহানি হয়েছে এবং জনমনে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য, মঙ্গলবার রাজভবন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ছ’টি ধারা এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার একটি ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিল। বুধবার কল্যাণের পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল বনাম রাজভবন–এর এই সংঘাত রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনীতিক পরিস্থিতিতে এই ধরণের অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সম্পর্কের স্বাভাবিকতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, “একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। ভোটের আগে এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ক্ষুণ্ন করছে।”

অন্যদিকে, রাজ্যপালের দফতর এখনও পর্যন্ত কল্যাণের অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাতের জেরে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত