ভবানীপুরে প্রচারমঞ্চ থেকে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতাকে ‘ঝুপড়ি শহর’ বলার অভিযোগ ঘিরে অমিত শাহ-কে কড়া জবাব দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“গরিব মানুষ কি তবে এই শহরে থাকার অধিকার হারাবে?” একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, সাঁজোয়া গাড়ির ব্যবহার এবং ‘ছাপ্পা ভোট’-এর অভিযোগ তুলে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বলেন,”বলছে বাইক বন্ধ। দোকান বন্ধ। সব বন্ধ। শুধু তোমরা একা চলবে, আর কেউ চলবে না? মানুষ বাইরে বিপদে পড়লে কী করে যাবে? কোর্টে কেস করে আটকানো হয়েছে। জোরজুলুম করছে। হামলা করছে। অত্যাচার করছে। দিল্লি মনে রেখো, আগামী দিন তোমাদের বদলা নেওয়ার পালা। আমি কোনওদিন বদলার কথা বলিনি। কিন্তু আমি ভোটের মাধ্যমে বদলা নেব। ’১১ সালে বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই। আর এ বার বলছি, বদল নয়, গণতান্ত্রিক বদলা চাই।”



ভবানীপুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করে বলেন, “কেন বাইরে থেকে দু’লক্ষ পুলিশ আনতে হল? সাঁজোয়া গাড়ি কেন? এত ফোর্স দিয়ে কি বাংলাকে দখল করা যাবে?” তাঁর দাবি, ভোট মানুষের ইচ্ছায় হয়, জোর করে নয়। তাই মানুষের উপর ভরসা রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও পাল্টা আক্রমণ করেন মমতা। উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিন অত্যাচারের ঘটনা ঘটে, অথচ অভিযোগ জানানোর সুযোগও অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। বাংলায় কোনও ঘটনা ঘটলে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বলেই দাবি তাঁর।
অমিত শাহের মন্তব্যের জবাবে মমতার বক্তব্য ছিল আরও তীক্ষ্ণ। তিনি বলেন, “যাঁরা ঘর-দোকানে কাজ করেন, শ্রমিক, কৃষক—তাঁদের কি দরকার নেই? তাঁদের ‘ঝুপড়িবাসী’ বলা অসম্মানজনক।” সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সম্মান করার বার্তাও দেন তিনি।


ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে ভোট দখলের উদ্দেশ্যে। তাঁর কথায়, “লোকের উপর ভরসা নেই বলেই এই ব্যবস্থা।” সভামঞ্চ থেকে ভোটের আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দিতে হবে। আঙুলে ‘দুই’ চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনেই আমরা সরকার গড়ব।”
পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এখানে সব ভাষা, সব সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকে, আর সেই ঐতিহ্য রক্ষা করাই বাংলার গর্ব।
এদিনের কর্মসূচিতে ছিল পদযাত্রা ও পরপর জনসভা। তীব্র গরম ও লু-র মধ্যেও প্রচার চালাতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মমতা। তবে ঈশ্বরের আশীর্বাদে একটি সভাও বাতিল হয়নি বলেও জানান তিনি।








