রাজভবন বনাম কল্যাণ: তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ৮ ধারায় মামলা করতে চলেছেন রাজ্যপাল বোস

রাজভবনে অস্ত্র মজুত থাকার অভিযোগে ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ—রাজভবনে অস্ত্রশস্ত্র মজুত রয়েছে। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে রাজভবন জানিয়েছে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস খুব শিগগিরই মানহানির মামলা করতে চলেছেন। রাজভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

কল্যাণের মন্তব্যের ঠিক পরদিন, রাজ্যপাল নিজে রাজভবন চত্বরে তল্লাশি চালান। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং একটি স্নিফার ডগ। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতেই হয় চিরুনি তল্লাশি। তল্লাশির শেষে রাজ্যপাল জানান, “রাজভবনে কোনও আপত্তিকর কিছুই নেই। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।”

কিন্তু কল্যাণের অবস্থান অপরিবর্তিত। তাঁর সোজা মন্তব্য, “উনি যা ইচ্ছা করুন। মামলা করলে রাজ্যপাল নিজেই করুন।”

রাজভবন সূত্রে খবর, মোট আটটি ধারায় মামলা করতে চলেছেন রাজ্যপাল বোস।
ভারতের ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর সেকশন ১৫১, ১৫২, ১৯৬A, ১৯৬B, ১৯৭, ৩৫৩-১B, ৩৫৩C এবং ৩৫৩-২ ধারায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে, যার মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত, ঘৃণা ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, হুমকি এবং রাজ্যপালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।

রাজভবনের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, কল্যাণের মন্তব্য শোনার পরই রাজ্যপাল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। উত্তরবঙ্গ সফর থেকে কলকাতা ফিরে তিনি আইনজীবীদের নির্দেশ দেন, “সবচেয়ে কঠোর ধারায় মামলা সাজানো হোক।” এরপরই আইনজীবীরা বাস্তবিক প্রস্তুতি শুরু করেন।

রাজভবনের আধিকারিকদের ধারণা, এই সপ্তাহের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হতে পারে।

মামলার সূচনা শুরু হয় শনিবার। সেইদিন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন রাজ্যপাল। এর পরই কল্যাণ অভিযোগ করেন, “রাজ্যপাল বিজেপির অপরাধীদের রাজভবনে আশ্রয় দিচ্ছেন, অস্ত্র দিচ্ছেন এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা করতে বলছেন।”

রবিবার পাল্টা বিবৃতি দেয় রাজভবন। কিন্তু তাতেও থামেননি কল্যাণ। আবারও তিনি রাজ্যপালকে নিশানা করেন।

এই মন্তব্যগুলির পরই রাজ্যপাল সোমবার রাজভবনে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। গণমাধ্যমের সামনে পরিস্কার হয়—অস্ত্র বা কোনও সন্দেহজনক বস্তু নেই। এরপরই সামনে আসে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজভবন এবং তৃণমূল সাংসদের এই সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে।
একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—দুই ক্ষেত্রেই আগামী কয়েকদিন নজর থাকবে কলকাতা হাই কোর্টের দিকে।

রাজ্যপাল যে আপাতত কঠোর অবস্থানে, তা স্পষ্ট। আর কল্যাণের ভঙ্গিতেও বিন্দুমাত্র নড়চড় নেই। ফলে রাজভবন বনাম কল্যাণ—এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত