শ্যামপুরের জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণে নামলেন অমিত শাহ। আইনশৃঙ্খলা, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থেকে শুরু করে ‘ভাইপো-ট্যাক্স’— একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “গুন্ডাদের ভয় দেখাব না কি কোলাকুলি করব?” ভোটের আগে তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ল।
সভা শুরুতেই ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি তুলে জনতাকে উজ্জীবিত করেন শাহ। ভিড়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমাগমই প্রমাণ দিচ্ছে, রাজ্যে পরিবর্তনের সময় এসে গিয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, “আমি যদি গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর হই, তাতেই দিদি আপত্তি করেন। তা হলে কী করব? কোলাকুলি করব?” তাঁর হুঁশিয়ারি, মহিলাদের উপর অত্যাচার হলে কাউকে ছাড়া হবে না।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়েও বড় ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চার তারিখের পর পশ্চিমবঙ্গে চার বিয়ে বন্ধ করা হবে।” এই মন্তব্য ঘিরে সভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।
ধর্মীয় ইস্যুতেও তীব্র সুরে আক্রমণ করেন শাহ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বাংলায় ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির চেষ্টা চলছে— যা বিজেপি কোনওভাবেই হতে দেবে না। তাঁর কথায়, “এই মাটিতে তৈরি হবে দুর্গামন্দির।”


কৃষকদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন শাহ। তিনি জানান, ১ মে-র পর থেকে প্রতি কুইন্টাল ধান ৩,১০০ টাকায় কেনা হবে এবং বছরে ৯,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘কাটমানি’ বন্ধ করে সেই অর্থ সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর আশ্বাস দেন।
দুর্নীতি ইস্যুতে ‘ভাইপো-ট্যাক্স’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই চক্র ভেঙে দেওয়া হবে।
মহিলাদের উদ্দেশে শাহ ঘোষণা করেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাঁরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন। শনিবারের কর্মসূচিতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে সভা সেরে শ্যামপুরে আসেন শাহ। দিন শেষে তাঁর আরও দু’টি রোড শো থাকার কথাও জানান বিজেপি নেতৃত্ব।







