তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে। এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) দাবি করেছেন, এখনও কালীঘাট শিবিরে থাকা আরও দু’জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও ওই দুই সাংসদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, যে দল থেকে তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার পর এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার জেরে অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর দাবি, “দু’জন সাংসদ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছেন।” তবে তাঁরা কারা বা ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলি আরও বলেন, ওই দুই সাংসদ পুরুষ না মহিলা, কিংবা তাঁরা কবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন— এ নিয়েও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ফলে তাঁর বক্তব্যের পর জল্পনা বাড়লেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র একাধিক রাজনৈতিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৈঠকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। তবে ওই সম্ভাব্য বৈঠকে কালীঘাট শিবিরের কোনও সাংসদ যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কোনও মন্তব্য করেননি।


বর্তমান পরিস্থিতিতে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে অবস্থান নিয়ে নানা দাবি-পাল্টা দাবি সামনে আসছে। তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্যের সত্যতা বা ভবিষ্যতে আরও কোনও সাংসদের দলবদলের সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা সাংসদ-স্তরের নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay) অবশ্য ভিন্ন সুরে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোনও সাংসদ যোগাযোগ করেননি। ফলে একই শিবিরের দুই নেতার বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গিয়েছে।


কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেও, কালীঘাট শিবির বা সংশ্লিষ্ট দুই সাংসদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।



