নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু ঘিরে তোলপাড় বাংলা। ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাগিংয়ের অভিযোগেই উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী তত্ত্ব। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে অরিত্র মজুমদারের (আলু)। দীর্ঘদিন ‘নিখোঁজ’ থাকার পর মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্ট করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু এরপরও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। অরিত্রর ফেসবুক পোস্টে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি এসএফআই-এর।
আরও পড়ুন: ছাত্রমৃত্যুর ১১ দিন পর ‘নিখোঁজ’ অরিত্রর হদিশ মিলল, অভিযোগের জবাব দিতে ফেসবুক পোস্ট


নিজের ফেসবুক পোস্টে অরিত্র দাবি করেছেন, ৯ আগস্ট অর্থাৎ ঘটনার দিন তিনি হস্টেলে যাননি। এমনকি ১০ তারিখ কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। এপ্রিল মাসেই টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। কাশ্মীরে ট্রেকিংয়ে নেটওয়ার্ক পরিষেবা খারাপ থাকার কারণে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলেও দাবি আলুর (অরিত্রর ডাক নাম)। যাদবপুরকাণ্ডে এবার নজরে এই ছাত্র নেতা। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি তলব করেছে তাঁকে। বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন কেন হস্টেলে গরহাজির ছিলেন তিনি? এছাড়া অরিত্র র্যাগিংকাণ্ডে কীভাবে জড়িত? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় তদন্ত কমিটি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে গবেষণারত অরিত্র মজুমদার দাবি করেছেন গত ১০ আগস্ট তিনি কলকাতায় ছিলেন না। কিন্তু ১১ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। এমনকি যে বিমানে কাশ্মীর যাওয়ার কথা ছিল ওই দিন বিমানটি বাতিল করা হয়েছিল। এসএফআই এই প্রশ্নগুলি তুলেই পাল্টা অভিযোগ এনেছে। যদিও আলুর দাবি, বিমান বাতিল থাকায় বিকল্প পথে গিয়েছিলেন। তার প্রমাণস্বরূপ কিছু নথি ফেসবুকে প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। দ্বিতীয় ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘এত ডিটেইল কথা হবে ভাবিনি…।’



উল্লেখ্য, ঘটনার পর থেকেই ‘পলাতক’ হওয়ার প্রসঙ্গে অরিত্র ওরফে আলু জানিয়েছেন, “১০ আগস্ট রাজধানী এক্সপ্রেসে নয়া দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ট্রেকিংয়ের জন্য গন্তব্য ছিল কাশ্মীর লেকস। সেখানে গিয়ে নেটওয়ার্ক পরিষেবা খারাপ থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, “১০ আগস্ট, ট্রেন ধরার আগে, সকালে আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। যাঁরা সেই রাতের ঘটনার পরেই আমার ফেরার হওয়া নিয়ে প্রচার করছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গে দেখাও হয়েছিল সেদিন।”
অরিত্রর ফেসবুক পোস্টে ‘অসঙ্গতি’, ১১ তারিখ রেজিস্টারে সই কীভাবে? তলব আলুকে








