নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে অরিত্র মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যিনি ‘আলু’ নামেও পরিচিত। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই ‘নিখোঁজ’ ছিলেন তিনি। কোনও খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। অনেকেই আবার বলেছিল গা ঢাকা দিতে কাশ্মীরে পালিয়ে গিয়েছেন আলু। গত কয়েকদিনে নানা প্রশ্ন-জটিলতা তৈরি হয়েছে। অবশেষে হদিশ মিলল অরিত্রর। নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের জবাব দিতে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ছাত্ররাই একমাত্র পারে র্যাগিং রুখতে, বললেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে গবেষণারত অরিত্র মজুমদার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, গত ৯ আগস্ট মেন হস্টেলে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এমনকি তাঁর উপস্থিতিতেই তথ্য প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। এর উত্তরে অরিত্র দাবি করেছেন, “৯ আগস্ট রাতে আমি যাদবপুরের মেন হোস্টেলে ঢুকিইনি। এমনকি, তার আগের বেশ কিছুকাল আমি হোস্টেলে যাইওনি। আমি সেই রাতে কেপিসি হাসপাতালেও গিয়ে উঠতে পারিনি। ফলে, গোটা অভিযোগটাই অবান্তর। ” তদন্ত করলে একথা সহজেই প্রমাণ হবে বলে বিশ্বাস তাঁর।

ঘটনার পর থেকেই ‘পলাতক’ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “১০ আগস্ট রাজধানী এক্সপ্রেসে নয়া দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ট্রেকিংয়ের জন্য গন্তব্য ছিল কাশ্মীর লেকস। সেখানে গিয়ে নেটওয়ার্ক পরিষেবা খারাপ থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠছে সেগুলি অরিত্রর কাছে পৌঁছায়নি।” তিনি আরও বলেন, “১০ আগস্ট, ট্রেন ধরার আগে, সকালে আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। যাঁরা সেই রাতের ঘটনার পরেই আমার ফেরার হওয়া নিয়ে প্রচার করছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গে দেখাও হয়েছিল সেদিন।…আমার সতীর্থ ও বন্ধুরাও নানা জায়গায় এই কথা বলে থাকতে পারেন। কিন্তু, তারপরেও আমাকে নিয়ে ফেসবুকে ও মিডিয়ায় টানা ‘পলাতক’ প্রচার চলেছে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট যাদবপুরের মেন হস্টেলের তিন তলার বারান্দা থেকে পড়ে যান প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র। পরের দিন ভোরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের তরফে র্যাগিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রাক্তনী ও পড়ুয়া মিলিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা ১২।
ছাত্রমৃত্যুর ১১ দিন পর ‘নিখোঁজ’ অরিত্রর হদিশ মিলল, অভিযোগের জবাব দিতে ফেসবুক পোস্ট




