ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ, যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড়, সংসদ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা!

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে জোরদার আন্দোলন। সংসদ অভিযান রুখতে কড়া নিরাপত্তা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীদের প্রতিবাদে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ বুধবারও জোরদার হচ্ছে বিক্ষোভ। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থকদের পাশাপাশি ছাত্র, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সেখানে জমায়েত হয়েছেন। সম্ভাব্য সংসদ অভিযানকে ঘিরে সংসদ ভবন (Parliament House)-সহ রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ।

সকালের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে পৌঁছতে শুরু করেন। CJP-র পক্ষ থেকে সৌরভ দাস বিক্ষোভস্থলের ছবি প্রকাশ করে সমর্থকদের উপস্থিতির দাবি তুলে ধরেন। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানান, সরকারের তরফে দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে সংগঠন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দিল্লিতে পৌঁছবেন।

সোমবারের সংসদ অভিযানের অভিজ্ঞতার পর এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। সংসদ ভবন, রফি মার্গ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

NEET পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে CJP এখনও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, আবারও সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা হতে পারে বলেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সোমবারের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ছয়টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। সেদিন সন্ধ্যায় পুলিশ মঞ্চ সরিয়ে এলাকা খালি করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা ফের যন্তর মন্তরে ফিরে এসে অবস্থান শুরু করেন।

অন্যদিকে, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর ও অসম-সহ একাধিক রাজ্যে কংগ্রেস (Congress) ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে আন্দোলনে যোগ দেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)-কেও আটক করা হয়। পরে সকলকেই মুক্তি দেয় পুলিশ।

বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছাত্র আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)-র জন্মদিন উপলক্ষে বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারের তরফে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) এবং স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন (Govind Mohan) ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা রাহুল গান্ধীকে জানান, সরকার NEET ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় রাজি। তবে অবস্থান প্রত্যাহার না করায় পরে পুলিশ তাঁকে সংসদ মার্গ থানায় নিয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও আটক করা হলেও রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)-এর নির্দেশে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-কে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং জেপি নাড্ডা (JP Nadda) তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংসদ ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি ছিল। ব্যারিকেড, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং মোবাইল ইন্টারনেট সীমিত করার পরও বিপুল সংখ্যক মানুষ সংসদের দিকে এগোতে থাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এনডিএ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) প্রথমবার NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে মুখ খোলেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি রাজ্য বা কেন্দ্রের বিষয় নয়, তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সুর মিলিয়েই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার NEET নিয়ে আলোচনায় এবং ছাত্রদের প্রকৃত উদ্বেগের সমাধানে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে দিল্লিতে আন্দোলনের আবহ এখনও থামার কোনও ইঙ্গিত মিলছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন