‘রাম মন্দিরের টাকা চুরিতেও লজ্জা নেই’, দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ড চাইল এলাহাবাদ হাই কোর্ট

রাম মন্দিরে চুরি নিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিস্ফোরক মন্তব্য— "এটাই সততার সর্বনিম্ন স্তর।" দুর্নীতি রুখতে দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সওয়াল বিচারপতির। বুলডোজার অভিযান নিয়েও সরব আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রয়াগরাজ: রাম মন্দিরে (Ram Mandir) দানপাত্র থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এ বার সরাসরি মুখ খুলল এলাহাবাদ হাই কোর্ট (Allahabad High Court)। বুধবার এক মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অতুল শ্রীধরন (Justice Atul Sridharan) বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “রাম মন্দিরের টাকা চুরি করতেও মানুষের লজ্জা হয় না, এটা সততার সর্বনিম্ন স্তর।” শুধু তাই নয়, দেশে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি দুর্নীতিগ্রস্তদের দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড (Death Penalty) দেওয়ার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন।

উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষা চেয়ে সম্প্রতি এলাহাবাদ হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানি চলাকালীন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিচারপতি শ্রীধরন বলেন, “অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারতীয়রা এখন দুর্নীতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে। ধরা না পড়লে বিষয়টিকে আর অপরাধ হিসেবে মনে করা হয় না।” তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (Transparency International) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, “১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯১। এরপরও আমাদের কোনও লজ্জা নেই।”

বিচারপতি আরও বলেন, “রাম মন্দিরে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা ভারতীয়দের সততার সর্বনিম্ন স্তর। তারপরও যারা বিচলিত নন, তাঁদের আর কোনও কিছুতেই লজ্জা নেই।” এই প্রেক্ষিতে তিনি ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act) সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেন সরকারকে। তাঁর সাফ কথা, “দুর্নীতির অপরাধে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড।”

পাশাপাশি বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধেও সরব হন বিচারপতি। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ সত্ত্বেও নির্বিচারে ভাঙচুর চলছে। যেন রায়গুলোর কোনও অস্তিত্বই নেই।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, “অসৎ নেতা ও আমলাদের ঘুষ দিয়ে বেআইনি বাড়ি যখন তৈরি হয়, তখন প্রশাসন চুপ করে দেখে। সেগুলি কেনার পর সমস্যার মুখে পড়তে হয় নাগরিকদের।”

প্রসঙ্গত, রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক জনকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। জেরায় জানা গেছে, প্রথমে দুই হাজার টাকা করে চুরি করত অভিযুক্তরা। কেউ সন্দেহ না করায় পরে নির্ভয়ে টাকার বান্ডিল চুরি শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, প্রতিদিন এক থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত চুরি করতে শুরু করে তারা। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন