তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই, একইসঙ্গে পুলিশ সুপার ও ইডির দ্বারস্থ হওয়ায় নতুন করে জোরালো হল বিতর্ক।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে থাকার সুযোগে জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর পরিবারের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই সম্পত্তির পরিমাণ তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা আর্থিক অনিয়ম ও বেআইনি লেনদেনের ইঙ্গিত বহন করছে।


জাহাঙ্গির খানের রাজনৈতিক জীবনও এই বিতর্কে উঠে এসেছে। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বেলসিঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এই সময়ের মধ্যেই তাঁর ও তাঁর পরিবারের হাতে বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জমা হয়েছে।
বিধান পাড়ুই আরও জানিয়েছেন, একই ধরনের অভিযোগ ২০২২ সালেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও কার্যত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হিসেবেও ওঠে। তবে জাহাঙ্গির খানের দাবি, আদালত ইতিমধ্যেই এই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আগেই বিষয়টি আদালতে গিয়েছিল, সেখানে এই অভিযোগ খারিজ হয়ে গেছে।”


বর্তমানে নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় এই ইস্যুতে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটাই নজরে রাজনৈতিক মহলের।







