বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এবার সরাসরি নির্বাচনের ফলাফল নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি দাবি করেন, “এই রায় মানুষের রায় নয়।” একইসঙ্গে আধাসামরিক বাহিনী ব্যবহার করে অন্তত ১০০টি আসনে গণনা কেন্দ্রে ‘লুঠ’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিয়ো বার্তায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, “ওরা লুঠপাট করে ক্ষমতায় এসেছে। তাই মানুষের শক্তিকে ভয় পাচ্ছে। সেই ভয় থেকেই পার্টি অফিস দখল, ভাঙচুর, খুন— সব চলছে।” ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।


শুধু বর্তমান পরিস্থিতিই নয়, এদিন অভিষেক টেনে আনেন সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ও চারদিকে বারুদের গন্ধ ছিল। তখনও আমরা হার মানিনি। আজও পরিস্থিতি প্রায় একই। এটা এক অগ্নিপরীক্ষা।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাতেও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে গণনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। যদিও তিনি এ-ও বলেন, “মানুষ যে রায় দেবে, আমরা মাথা পেতে নেব। কিন্তু যা হয়েছে, তা মানুষের প্রকৃত রায় নয়।”
অন্যদিকে, একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বুলডোজার অভিযান সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করেন তিনি। আদালত চত্বরে মমতাকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে বলেও অভিযোগ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।


রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে, অন্যদিকে বিজেপিও পাল্টা আক্রমণে সরব। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও সংঘাতময় হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।







