পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। পাঁচবার সমন এড়ানোর পর অবশেষে শুক্রবার ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁর হাজিরা ঘিরে সকাল থেকেই তীব্র জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। সুজিত বসু এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেফতারের পর রথীন ঘোষকে জেরা তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ইডি সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রথীন ঘোষকে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান। যদিও এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলাতেই তদন্তের চাপ আরও বাড়তে শুরু করে। তার মধ্যেই শুক্রবার সকালে ইডি দফতরে পৌঁছন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক। এর আগে এই মামলার তদন্তে রথীন ঘোষের বাড়িতেও দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
এদিকে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক প্রভাবশালী নাম সামনে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে। বৃহস্পতিবারই দীর্ঘ জেরার পর গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার তথা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। তার কয়েকদিন আগেই একই মামলায় গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
তদন্তকারীদের দাবি, অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হওয়া নথি থেকেই পুরসভাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির সূত্র মিলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বর্তমানে সিবিআই এবং ইডি সমান্তরালভাবে এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে।
তদন্ত যত গভীরে পৌঁছচ্ছে, ততই উঠে আসছে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা এবং রাজনৈতিক মহলের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। এই দুর্নীতির জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত, আর কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা জানতেই এখন মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন রথীন ঘোষের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই।



