বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার বাংলার পুরভোটকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং শহরাঞ্চলেও জনভিত্তি মজবুত করতে নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছে গেরুয়া শিবির। আর সেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হচ্ছে চার শীর্ষ নেতাকে— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে। বিজেপির অন্দরের খবর, আগামী পুরভোটের আগে এই চার নেতাকেই সামনে রেখে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করার পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি নেতৃত্ব।
রাজ্যে শীঘ্রই ১২১টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগমের নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে জেলায় জেলায় দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে ‘অভিনন্দন কর্মসূচি’রও পরিকল্পনা হয়েছে। সেই কর্মসূচির মুখও থাকবেন এই চার নেতা।


সম্প্রতি ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন নিয়েও সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ফলতায় জয়ের ধারা বজায় রাখার জন্য বুথস্তর পর্যন্ত রণকৌশল তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম আসনেও ফের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী পদ্ম শিবির। ভবানীপুর থেকে জিতে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রামে পুনর্নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, কলকাতা থেকে দক্ষিণবঙ্গ— গোটা রাজ্য চষে বেড়িয়েছেন শুভেন্দু, শমীক, সুকান্ত ও দিলীপ। বিজেপির অন্দরে শুভেন্দুকে এখন ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, ভবানীপুরে তিনি হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেত্রীকে। পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও তাঁর জয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়েও যথেষ্ট সন্তুষ্ট দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপির অন্দরে দাবি, নতুন ও পুরনো কর্মীদের এক ছাতার তলায় এনে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বাঙালিয়ানার বিষয়টিকেও সামনে এনেছেন দলের রাজনীতিতে।


সুকান্ত মজুমদারও সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বলে মনে করছে বিজেপি। জেলায় জেলায় সভা করে কর্মীদের সক্রিয় করেছেন তিনি। আর দিলীপ ঘোষ এখনও দলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বজায় রেখেছেন।
দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব— নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ— এই চার নেতার উপরেই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখছেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। তাই আগামী পুরভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে শুভেন্দু-শমীক-সুকান্ত-দিলীপ— এই চার মুখকেই সামনে রেখেই এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির।







