নজরবন্দি ব্যুরো: পিতা-পুত্রের সমীকরণই কি শিশিরকে টেনে আনবে বিজেপিতে, নির্বাচনী আবহে ঘাসফুল শিবিরে চিন্তা বাড়িয়ে একে একে দল ত্যাগ করে চলেছেন হেভিওয়েট নেতারা। সেই তালিকায় রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শীলভদ্র দত্ত, জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ অনেকে। শোনা যাচ্ছে, আগামীকাল মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগদান করবেন। এদিকে শিশির অধিকারীকে নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল। তাঁকে নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না।
আরও পড়ুন: ৩ আইপিএস অফিসারকে ডেপুটেশন! কেন্দ্রকে এক হাত নিয়ে রাজ্যের পাশে অধীর


কাঁথির বর্ষীয়ান সাংসদ শিশিরবাবু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল সভাপতি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি শুভেন্দু অধিকারীর কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলেননি। এমনকি জেলা তৃণমূল যাতে সক্রিয় হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে দলের হয়ে, সেই ব্যাপারে তাঁকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলার নিচতলা থেকে মাঝারি মাপের নেতারা যখন দলবিরোধী কথা বলেছেন, তখনো বিষয়টির প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি তাঁকে।
ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের সভায় কাল তৃণমূলের অন্তত দুজন সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁদের মধ্যে একজন সুনীল মণ্ডল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে প্রশ্ন উঠছে অন্যজন কী তাহলে শিশির অধিকারী? সেই জল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও এর আগে শিশিরবাবু বলেছিলেন তিনি তৃণমূলেই আছেন। কিন্তু তা সত্বেও তাঁকে নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছে না তৃণমূল।
পিতা-পুত্রের সমীকরণই কি শিশিরকে টেনে আনবে বিজেপিতে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের এক তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘শিশিরবাবুকে নিয়ে আমাদের সমস্যা রয়েছে। তাঁর সামনে আমরা কখনোই স্বাভাবিক ছন্দে শুভেন্দুর বিরোধিতা করতে পারব না। এমনকি সামনের বিধানসভা নির্বাচনে মূলত পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি কি হবে, সেটাও কি তাঁর সঙ্গে দল খোলা মনে আলোচনা করতে পারবে?’ ফলে এই নির্বাচন ও হিড়িকের আবহে আগামী দিনে শিশির অধিকারী তাঁর অবস্থান কিভাবে পরিষ্কার করবেন সে দিকেই পাখির চোখ করে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।









