যুদ্ধের আগুন এবার পৌঁছে গেল শ্রেণিকক্ষে। শনিবার সকালে তেহরানে পরপর মিসাইল হামলার জেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল একটি গার্লস স্কুল, মৃত্যু হল অন্তত ৩৬ ছাত্রীর। আন্তর্জাতিক মহলকে নাড়িয়ে দেওয়া এই হামলা শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং সাধারণ নাগরিক— বিশেষ করে শিশুদের উপর যুদ্ধের নির্মম প্রভাবকে সামনে এনে দিয়েছে। ইরান–ইজ়রায়েল সংঘাতের এই নতুন অধ্যায় পশ্চিম এশিয়াকে আরও ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তেহরানের একাধিক এলাকায় পরপর তিনটি মিসাইল আছড়ে পড়ে। প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে জোমহুরি স্ক্যোয়ার সংলগ্ন একটি আবাসনে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসান আবাদ এলাকায় আরও একটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি ভবন। তৃতীয় মিসাইলটি আঘাত হানে পাস্তুর স্ট্রিট সংলগ্ন মিনাব শহরের একটি গার্লস স্কুলে— যেখানে তখন সদ্য ক্লাস শুরু হচ্ছিল।


ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম IRNA জানিয়েছে, ছাত্রীরা স্কুলে প্রবেশ করার সময় আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। প্রবল বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে স্কুল ভবন। বহু ছাত্রী আগুনে ঝলসে যায়, অনেকে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে।
উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৬ জন ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করেছে। আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষ, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর রাজনৈতিক বার্তা
হামলার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump একটি ভিডিও বার্তায় ইরানের সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইরানবাসী পরিবর্তন চাইছেন এবং এখনই সেই সুযোগ।


একই সুরে বক্তব্য রাখেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেন, ইরানবাসীরা যাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা হবে।
পাল্টা হামলায় ইরান
তেহরানে হামলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায় ইরান। বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলার অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। বাহারিন সরকারের দাবি, প্রথমে ইজ়রায়েলের দিকে ৩০–৩৫টি মিসাইল ছোড়া হয়, পরে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।
সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। কাতারের Al Udeid Air Base, কুয়েতের Al Salem Air Base এবং জর্ডানের Muwaffaq al-Salti Air Base— এই মার্কিন ঘাঁটিগুলিও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাগরিক অবকাঠামোয় হামলা এবং শিশুদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। এখন নজর— আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারে কি না।







