ইরানে গৃহযুদ্ধের ছক ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাকি ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে কুর্দ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। সংবাদসংস্থা Reuters–এর একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের পশ্চিম সীমান্তে সক্রিয় কুর্দ সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে তেহরানের সামরিক কাঠামোর উপর হামলার কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই পরিকল্পনা কবে বা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মার্কিন সমর্থন চেয়ে যোগাযোগ করেছে কুর্দদের সশস্ত্র সংগঠনগুলি। অন্তত দু’টি সূত্রের দাবি, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ তাদের অস্ত্র সহায়তা দেবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই সম্ভাব্য সমর্থন ঘিরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের উপর চাপ বাড়াতে কুর্দ গোষ্ঠীগুলিকে গোপনে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সিআইএ। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েবসাইট Axios দাবি করেছে, কুর্দদের দুই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানে গৃহযুদ্ধের ছক?
প্রসঙ্গত, কুর্দরা পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী, যাদের এখনও পর্যন্ত নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক এবং ইরান—এই চারটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে কুর্দ জনগোষ্ঠী। ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেই মূলত কুর্দদের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠন তাদের কার্যকলাপ পরিচালনা করে।
ইরানের পশ্চিম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দ সংগঠনগুলির সক্রিয়তা রয়েছে। সেই অঞ্চল থেকেই ইরানের কুর্দ গোষ্ঠীগুলি নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রম চালায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ পারসিক, তবে সেখানে প্রায় ৮০ লক্ষ কুর্দ বসবাস করেন। এছাড়াও আরব, আজ়ার এবং বালোচ সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন। মার্কিন বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে, এবং সেই ক্ষোভকেই কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হতে পারে।
এই সম্ভাব্য সমীকরণের খবর যে তেহরানের অজানা নয়, তার ইঙ্গিতও মিলেছে। মঙ্গলবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই এই আগাম সতর্কবার্তা।
পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এই নতুন উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ।



