কাতার-সৌদিতে ইরানের মিসাইল বৃষ্টি, রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা— নাগরিকদের দেশ ছাড়তে নির্দেশ ট্রাম্পের

কাতার ও সৌদিতে ৯২ মিসাইল-১৭ টি ড্রোন হামলা ইরানের। রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে আগুন, নাগরিকদের ১৫ দেশ ছাড়ার নির্দেশ আমেরিকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মঙ্গলবার ভোরের অন্ধকার কাটতে না কাটতেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শুরু হয় আগুনের খেলা। কাতার ও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একযোগে ৯২টি ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ১৭টি ড্রোন ছোড়ে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় ভবনে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ঠিক খুঁজে বের করব।” একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার ১৫টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে।

ইরানের এই হামলার দায়িত্ব নেয় Islamic Revolutionary Guard Corps। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আকাশেই ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে দোহা ও আশপাশের এলাকা।

অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ রাতভর বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়। ইরানের একাধিক ড্রোন রিয়াধ ও আল-খারজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাঘাঁটি। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, অন্তত আটটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে রিয়াধে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে। ড্রোন হামলায় দূতাবাস ভবনের একাংশে আগুন ধরে যায়। যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড। তাঁর বক্তব্য, “দায়ীদের চিহ্নিত করে কড়া জবাব দেওয়া হবে।” হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের।

এদিকে আমেরিকার তরফে পশ্চিম এশিয়ার ১৫টি দেশ থেকে নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাহরিন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, গাজা উপত্যকা, জর্ডন, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইয়েমেন। ফ্লাইটে হোক বা অন্য যে কোনও উপায়ে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে চলেছে কি না, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ চরমে। কূটনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে একাধিক শক্তিধর দেশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর