বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে কয়লা কেলেঙ্কারি ঘিরে বড় পদক্ষেপ—আইপ্যাকের শীর্ষ কর্তা বিনেশ চান্ডেলকে ১০ দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠাল আদালত। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে, কারণ ভোটের মুখে তদন্তের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
মঙ্গলবার ভোরে দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্টে শুনানির পর Enforcement Directorate (ইডি)-র আবেদনে সাড়া দিয়ে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন বিনেশ চান্ডেলকে ১০ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক কর্তার ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পর রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।


ইডি-র দাবি, Indian Political Action Committee (আইপ্যাক)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিনেশ সংস্থার প্রায় ৩৩ শতাংশ অংশীদার এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই মামলার সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর থেকে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি একই মামলায় আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার আর এক প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশির সময় তিনি নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে দেন, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করে ইডি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে Supreme Court of India-এর দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। যদিও মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।


তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে হিসাবভুক্ত ও অঘোষিত তহবিল গ্রহণ, জামানতহীন ঋণ, ভুয়ো চালান, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে হাওয়ালা চ্যানেলের ব্যবহার।
ভোটের আগে এই গ্রেপ্তারি ও হেফাজতের নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।








