“বিজেপির টিকিট পেতে হলে আগে তৃণমূল করতে হবে!”—চন্দননগরে বিস্ফোরক ইন্দ্রনীল সেন

চন্দননগরের সভায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, তৃণমূলের প্রাক্তনরাই এখন বিজেপির প্রার্থী। পাশাপাশি বামফ্রন্টকেই প্রধান প্রতিপক্ষ বললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পারদ। চন্দননগরের সভামঞ্চ থেকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুললেন ইন্দ্রনীল সেন। বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি সরাসরি দাবি করলেন—বিজেপির প্রার্থী হতে গেলে নাকি ‘তৃণমূলের অভিজ্ঞতা’ই প্রধান যোগ্যতা! শুধু তাই নয়, বামফ্রন্টকেও আসল প্রতিপক্ষ বলে মন্তব্য করে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন তিনি।

চন্দননগরের জ্যোতির মোড়ে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে বিজেপিতে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই একসময় তৃণমূল কংগ্রেস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নাম না করে তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ—বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির প্রার্থীদের অতীত খতিয়ে দেখলেই এই প্রবণতা স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “কেউ পাঁচ বছর, কেউ তিন বছর, কেউ দু’বছর তৃণমূল করেছে—এটাই এখন বিজেপির প্রার্থী হওয়ার মাপকাঠি।”

এই প্রসঙ্গেই তিনি টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নাম। ইন্দ্রনীলের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের ছোঁয়া এখন সব দলেই রয়েছে। কে প্রার্থী হবেন, কে জিতবেন—সবই তিনি নির্ধারণ করেন।”

‘মোদীর লাইন বনাম মমতার লাইন’

বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি তুলনা টানেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনধারার মধ্যে। তাঁর বক্তব্য—
“মোদীর লাইনে মানুষ দাঁড়ায় আধার, গ্যাস বা লিঙ্কের জন্য। আর মমতার লাইনে মানুষ পায় যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, মানবিক ভাতা—একশোর বেশি প্রকল্পের সুবিধা।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের উন্নয়ন মডেলের পার্থক্য তুলে ধরতে চান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি নয়, বামফ্রন্ট!

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইন্দ্রনীল সেন সভামঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন—তাঁদের মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি নয়, বরং বামফ্রন্ট। তিনি বলেন, “রাম-বাম এক হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পারবে না।” এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বাম ও বিজেপির মধ্যে ‘আতাঁত’-এর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে বামেদের ভোট বিজেপির দিকে সরে যাচ্ছে। এমনকি সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্য-ও সম্প্রতি এই প্রবণতার কথা আংশিকভাবে স্বীকার করেছিলেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ইন্দ্রনীল সেনের এই বক্তব্য আসলে দ্বিমুখী কৌশল—
একদিকে বিজেপিকে ‘দলবদলুদের দল’ হিসেবে তুলে ধরা, অন্যদিকে বামফ্রন্টকে সরাসরি আক্রমণ করে বিরোধী ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলা। ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য যে আরও তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন