আগামীকালের আবহাওয়া অর্থাৎ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা ও হাওড়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই চার জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জল জমার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কলকাতায় আগামীকাল আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু সময় বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে। কলকাতার জন্য হলুদ সতর্কতা থাকায় বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে বিশেষ করে দুপুর থেকে সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
হাওড়াতেও আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহর ও শহরতলিতে বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং রাস্তায় জল জমার কারণে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হতে পারে। তবে কলকাতায় সারাদিন ধরে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই—বৃষ্টির তীব্রতা স্থান ও সময়ভেদে বদলাতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আগামীকাল আবহাওয়া তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টির সঙ্গে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিঘা, মন্দারমণি ও বকখালির মতো উপকূলীয় পর্যটন এলাকাতেও সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও বৃষ্টির প্রভাব থাকবে। তবে আগামীকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের ওই চার জেলাকে ঘিরে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া এবং স্থানীয়ভাবে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় যাতায়াতকারীদের সতর্ক থাকা দরকার।
কলকাতার তাপমাত্রায় খুব বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামীকালের পূর্বাভাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং সর্বনিম্ন প্রায় ২৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে। ফলে বৃষ্টির বিরতিতে গরম ও আর্দ্রতা অনুভূত হলেও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে তাপমাত্রার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
আগামীকালের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নীচে বা জলাশয়ের কাছাকাছি না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাঁদের জরুরি কাজে বাইরে বেরোতে হবে, তাঁদের স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরোনোই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের জন্য ফের সক্রিয় আবহাওয়ার দিন। কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ফলে শহরে ছাতা সঙ্গে রাখা যেমন জরুরি, তেমনই উপকূল ও ভারী বৃষ্টিপ্রবণ এলাকাগুলিতে সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।



