নজরবন্দি ব্যুরো: তৃণমূল দলে শিল্পীর অভাব নেই। বলা ভালো, ঘাসফুল শাসন বজায় রাখার নেপথ্যে এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট ভূমিকা নিয়ে থাকেন শিল্পীবৃন্দ। তাই বলে বিধানসভায় বাদানুবাদে জড়াবেন দুই গায়ক? প্রথম সারির একাধিক সংবাদ পোর্টালে চাউর হয়েছে সে খবর। সুর তাল যাদের ধ্যানজ্ঞান, তাঁরাই হঠাৎ করে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘বেসুরো’ হলেন কেন? এ উত্তর জানা না থাকলেও, বিষয়টিকে একটু খোলসা করে বলাই যায়! কথা হবে, আজকের বিধানসভা শেষে স্বনামধন্য দুই গায়কমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন আর বাবুল সুপ্রিয়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে।


ইন্দ্রনীল সেন। এই নামটা বর্তমান সময়ে মমতা-ঘনিষ্ঠদের মধ্যে খুব শুরুর দিকের নাম। মমতা লেখেন, ইন্দ্রনীল তাতে সুর দেন। তৃণমূলের সমস্ত মঞ্চ থেকে শুরু করে ভোট সঙ্গীত, সুরের মূর্ছনায় জনগণকে একনিষ্ঠভাবে দলের প্রতি টেনে রাখেন জনপ্রিয় এই রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।
অন্যদিকে, বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের কাছে নামটা নতুন হলেও, এতদিনে তাঁর ‘তৃণমূল-বিরোধী’ কথাগুলোয় বোধহয় মান্যতা দিয়েছেন সে দলের নেতারা। কারণ, কথার ভিড়ে সে কথার বয়স হয়েছে। বাবুলও মমতার সংগীতাগ্রহের প্রতি যথেষ্ট নতজানু। তিনি সময় পেলেই ক্রমাগত উৎসাহ দিয়ে চলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সংগীতসাধনায়। ‘জাগো বাংলা’র শারদ সংখ্যা প্রকাশের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছিলেন পিয়ানিকা। পাশেই ছিলেন সঞ্চালক ইন্দ্রনীল। এমনকি তাঁদের তিনজনের এক ফ্রেমে ছবি এখনও সার্চে ঘোরে ফেরে।

মোদ্দা কথাটা হল, সোমবার ছিল বিধানসভার অধিবেশন। দত্তপুকুর বাজি বিস্ফোরণকাণ্ড এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত। শোনা গেল, অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের কিছু নিকটে একটু যেন পরস্পরের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করলেন ইন্দ্রনীল সেন এবং বাবুল সুপ্রিয়। দু’জনেই এই মুহূর্তে মমতার মন্ত্রী। প্রথমজন রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারে, দ্বিতীয় জন, পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিতে। মূলত, উন্নয়নের কাজে একে অপরের বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন এরকম বিষয় নিয়েই কিছুটা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ইন্দ্রনীল ও বাবুলের।


হতে পারে, বাবুল বলেছেন, “তুমি কেন আমার দপ্তরের কাজ আটকে রাখছো? তুমি তো ফাইল না পাঠালে কাজ হবে না!” বয়সে কনিষ্ঠ বাবুলকে ইন্দ্রনীল তখনই সমাধানসূত্র দিয়ে বললেন, “সেটা তুই দিদিকে গিয়ে বল নাহ্!”
![]()
দু’জনেই শিল্প থেকে রাজনীতিতে এলেও ইন্দ্রনীল রাজনীতিকে কাছাকাছি দেখছেন বাবুলের চেয়েও বেশ কিছু বেশিদিন ধরে। আর সংগীত সূত্রেও একে অপরকে চেনেন বহুদিন। রাজনৈতিক পরিসরে এই ধরনের কথা কাটাকাটির খবর ছড়িয়ে গেলে যে আখেড়ে নিজেদেরই ক্ষতি তা বুঝতে সময় নেননি ইন্দ্রনীল। তাই বাবুলকে থেমে যেতে বলে পরে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে সরে যান ‘বিচক্ষণ’ ইন্দ্রনীল।
তাল কাটছে দুই গায়কের? বিধানসভায় ইন্দ্রনীল বাবুলের বাদানুবাদ প্রকাশ্যে
একদিকে যখন এই বিবাদের গল্প সামনে আসছে, আবার একটা কথাও সত্যি কিছুদিন আগেই বাবুলের দফতরের অধীন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে ইন্দ্রনীলকে। এ খবর শুনে খুশিই হয়েছিলেন বাবুল। ফলে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেই সূত্রেই হয়তো দু’জনের মধ্যে কিছু কথা হয়ে থাকতে পারে। তবে হ্যাঁ, রাজনৈতিক মহলে যা ‘ঘটে’, তা তো কিছুটা ‘রটে’ও। আর শাসক দলের অন্দরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চললে তাকে তো ‘সমস্যা’র চোখেই দেখা হবে খুব স্বাভাবিক।








