মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং উত্তেজনা কমানোর পথই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। তাই কোনও পক্ষকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখছে ভারত।
ভারতের কূটনৈতিক নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই “স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি” বা কৌশলগত স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও একটি শক্তির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত না হয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের ক্ষেত্রেও সেই নীতিই অনুসরণ করছে নয়াদিল্লি।


ভারতের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল, কারণ দুই দেশের সঙ্গেই তার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নজরদারি প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে ইরানও ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম সম্ভাব্য অংশীদার। এছাড়া চাবাহার বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও ইরানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই ভারত এমন কোনও অবস্থান নিতে চাইছে না, যাতে দুই দেশের কারও সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির মূল লক্ষ্য হল কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে থাকা।


এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তাও ভারতের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ ভারতীয় বিভিন্ন দেশে কর্মরত। সংঘাত আরও তীব্র হলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, ইরান–ইজরায়েল সংঘাতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।







